Catalonia-declares-independence-from-Spain

স্বাধীনতার ঘোষণা দিল কাতালোনিয়া

স্বাধীনতার ঘোষণা দিল কাতালোনিয়া। স্পেন থেকে বের হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছে অঞ্চলটির পার্লামেন্ট। কাতালোনিয়ায় সরাসরি শাসন প্রতিষ্ঠা কর হবে- স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার মধ্যেই স্বাধীনতা ঘোষণা করলো স্বায়ত্বশাসিত এই অঞ্চলটি।

১৩৫ জন সদস্যের সংসদে উপস্থিতদের মধ্যে ৭০টি ভোট স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। আর ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন দুইজন। এদিন বিরোধী দলের এমপিরা ভোট বয়কটও করেন।

রায় ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পার্লামেন্টজুড়ে। সদস্যরা উল্লাস প্রকাশ করেন। বার্সেলোনার রাস্তায় টিভির বড় পর্দায় হাজার হাজার কাতালান এ নির্বাচন প্রক্রিয়া দেখেন। রায় ঘোষণার পরই আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা।

তবে স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান করে কাতালোনিয়ার বৈধতা পুনরুদ্ধারে প্রতিজ্ঞা করেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কাতালোনিয়ায় গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে বেশি ভোট পড়ার পর থেকেই সংকট শুরু হয় স্পেনে। গণভোটে ৪৩ শতাংশ ভোটার অংশ নেন, যার মধ্যে ৯০ ভাগ মানুষই স্বাধীতার পক্ষে ভোট দেন।

স্পেনের আদালত সাংবিধানিক আদালত এই গণভোট বাতিল করলেও স্বাধীনতার পক্ষে অটল ছিল কাতালোনিয়া সরকার।

স্পেনের সিনেট এখন প্রথমবারের মতো তাদের সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ কার্যকর করার পক্ষে মত দিচ্ছেন, যেখানে জুরুরি অবস্থায় যেকোন পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে ওই এলাকায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটে ৯০ শতাংশ ভোট পড়ে স্বাধীনতার পক্ষে। যদিও স্পেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই ভোট অবৈধ এবং দেশটির আদালতও তা প্রত্যাখ্যান করে।

গত ১১ অক্টোবর পার্লামেন্টে ভাষণ দেন কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লোস পুজেমন। ভাষণে তিনি বলেন, ব্যালট স্বাধীনতার পক্ষে বলেছে এবং আমি এরই পক্ষে এগোতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘কাতালোনিয়ার মানুষ স্বাধীন রাষ্ট্র চায়। কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এসব মানুষের পক্ষেই যেতে চাই আমি।’ অধিকাংশ মানুষের ধারণা ছিল, ওই দিনই স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন পুজেমন। তবে তিনি তা না করে স্পেনের সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখেন।

২১ অক্টোবর কাতালোনিয়া সরকারকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকার’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্পেন সরকার। আঞ্চলিক সরকার যাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে না পরে, সে লক্ষ্যে স্পেনের মন্ত্রিসভা ওই সরকার বাতিলের পক্ষে মত দেয়। তখন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নের আঞ্চলিক নেতা কার্লোস পুজেমন একপক্ষীয় এবং আইনবহির্ভূতভাবে গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়।

স্পেনের বিত্তশালী অঞ্চল কাতালোনিয়া। জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। এর রাজধানী বার্সেলোনা। অঞ্চলটির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। পাঁচ বছর ধরেই স্বাধীনতার কথা উঠছে। তবে ২০১৫ সালে কাতালোনিয়ার প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা। নির্বাচনের ওই ফলের মধ্য দিয়ে স্পেন থেকে পৃথক হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যায় কাতালোনিয়া।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *