কোকোর কবর জিয়ারতে কাঁদলেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতিমাও খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে কাঁদছিলেন।
সোমবার বিকেল পৌনে ছয়টায় তিনি বনানী কবরস্থানে পৌঁছেন। আগে থেকেই সেখানে নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন।

নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, লে. জে মাহবুবুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, চট্টগ্রামের মীর নাছির আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী সামছুর রহমান শিমু বিশ্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা।

স্বল্প জায়গার কারণে কিছুটা অগোছালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঠিকমতো সবকিছু হয়েছে। প্রথমে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন খালেদা জিয়া। মোনাজাত শেষে কোকোর কবরের পাশে একটি চেয়ারে কিছু সময় বসে থাকেন। প্রায় ১০ মিনিট তিনি কোরআন তেলাওয়াত করেন। যতক্ষণ কবরের পাশে ছিলেন ততক্ষণ তিনি কাঁদছিলেন।

মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারতে খালেদা জিয়ার বিকেল ৫টায় আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসলেন পৌঁনে ছয়টায়। কবরের পাশে ছিলেন মহিলা দলের নেত্রীরা। আর গেইটে ছিলেন বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে পাশে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ মিনিট গাড়িতে বসে থাকেন খালেদা জিয়া। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে কবরে পাশে যান।

এর আগে বিকেল চারটার দিকে আরাফাত রহমান কোকোর কবরের ওপরে টানানো হয় ত্রিপল আর খালেদা জিয়ার বসার জন্য আনা হয় চেয়ার।

গত ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে মারা যান খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। পরে তাকে ঢাকায় এনে ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওইসময় খালেদা জিয়া তার নিজ কার্যালয়ে কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ ছিলেন। তাই ‘মা’ খালেদা জিয়াকে দেখানোর জন্য ছেলের মরদেহ গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া আসা হয়। সেখানে খালেদা জিয়া শেষবারের মতো ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানান।

গত ২৭ জানুয়ারি বনানী কবরস্থানের বি ব্লকের ১৮ নং সারিতে অবস্থিত ১,৮৩৮/১৪৭ নং কবরে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে ২৮ জানুয়ারি মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই সন্তান জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান। তাদেরকে কবর স্থানে নিয়ে যান ছোট মামা শামীম ইস্কান্দার। ওই সময় শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা,  বড় মামা মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন সাঈদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরাও কোকোর কবর জিয়ারত করেন।

গতকাল রোববার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আদালতে হাজিরা দিয়ে ৯২ দিন পর গুলশানের বাসভবনে ফিরেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *