ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব
জাতীয়

ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব

ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাববিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে এ পর্যন্ত যারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেসব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে স্বাধীনতার পর গঠিত সকল রাজনৈতিক দলের মহাসচিব বা ওই সংশ্লিষ্ট দলের মনোনীত ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন। এরপর সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে ।’

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও নিবন্ধিত সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি।

বাছাই কমিটির সদস্যদের সাবেক প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, বিশ্ববিদ্যায়লের সাবেক অধ্যাপক ও দক্ষ যোগ্য নারীদের মধ্য থেকে বাছাই করার প্রস্তাব দেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন, ন্যূনতম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার সম্পন্ন, সিনিয়র আইনজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হবেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে দু’জন ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আটজন ব্যক্তিকে চার নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্তির সুপারিশ করবে বাছাই কমিটি।

এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে দুজনের মধ্যে একজন এবং নির্বাচন কমিশন পদে আটজন থেকে চারজনকে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন তার বক্তৃতায় ইসিকে অধিকতর শক্তিশালীকরণের জন্য বিধিবিধান ও আরপিও সংস্কার করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ইসির নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে এবং সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে।

তিনি, ইসি কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের আহ্বান জানান। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় ইসি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করবে বলেও প্রস্তাব দেন তিনি।

খালেদা জিয়া তার প্রস্তাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন।

তিন বলেছেন, ভোটগ্রহণের সময় ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে তা পোলিং বুথেই রাখতে হবে। আর ভোট গ্রহণের পর খালি ব্যালট বাক্স যদি থাকে তা নিরাপদে রাখতে হবে।

বিএনপি চেয়াপারসন রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতিসত্ত্বর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য বিএনপির প্রস্তাবনা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে বিএন‌পি নেতা‌দের ম‌ধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন, ব্যা‌রিস্টার মওদুদ আহ‌মেদ, ত‌রিকুল ইসলাম, ব্যা‌রিস্টার জ‌মির উদ্দি ন সরকার, মাহবুবুর রহমান, ব্যা‌রিস্টার র‌ফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গ‌য়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমি র খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনাম আহ‌মেদ চৌধুরী, আলতাফ হো‌সেন ‌চৌধুরী, হা‌ফিজ উদ্দি ন আহ‌মেদ, অ্যাড‌ভো‌কেট খন্দকার মাহবুব হো‌সেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাড‌ভো‌কেট জয়নাল আবে দিন, আবদুল মান্নান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাড‌ভো‌কেট আহমদ আজম খান, ডা. এ জেড এম জা‌হিদ হো‌সেন, আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন আলাল, খায়রুল ক‌বির খোকন প্রমুখ।

২০ দলীয় জোটের নেতা‌দের ম‌ধ্যে- ক‌র্নেল (অব.) অলি আহ‌মেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরা‌হিম, আন্দা‌লিব রহমান পার্থ, শ‌ফিউল আলম প্রধাজন, ফ‌রিদুজ্জামান ফরহাদ, জে‌বেল রহমান গা‌নি গোলাম ‌মোর্ত্তজা, আজহারুল ইসলাম, মোস্তা‌ফিজুর রহমান ইরান, সাঈদ আহ‌মেদ, সাইফু‌দ্দিন আহ‌মেদ ম‌নি, মো. আবদুর র‌কিব প্রমুখ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

‌এ ছাড়াও বি‌শিষ্ট ব্যক্তিদের ম‌ধ্যে প্রবীন আইজী‌বী ব্যা‌রিস্টার র‌ফিক উল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সা‌লেহ উদ্দিন আহ‌মেদ, সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ, জা‌বির সাবেক উপাচার্য ড. মোস্তা‌হিদুর রহমান, দিলারা চৌধুরী প্রমুখ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

বিগত দুই নির্বাচনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে
খালেদা জিয়া বলেন, তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসনে বদলির এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। বিগত পাঁচ বছরে যে যে কর্মকর্তা জেলা ও উপজেলায় কাজ করেছেন তাদের নতুন এলাকায় বদলি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন একটি কমিটি গঠন করবে, যারা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে পারবে।

খালেদা জিয়া বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কিংবা দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে পারবেন না। নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।

নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করবে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটগ্রহণের সময় ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে তা পোলিং বুথেই রাখতে হবে। ভোট গ্রহণের পর খালি ব্যালট বাক্স যদি থাকে তা নিরাপদে রাখতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালীকরণের জন্য বিধিবিধান ও আরপিও সংস্কার করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের রূপরেখা অবশ্যই জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচনের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

খালেদা জিয়ার প্রস্তাব দৃশ্যত নাকচ করলেন ওবায়দুল কাদের
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাব দৃশ্যত নাকচ করে দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসি গঠনে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশন গঠন ও বাছাই কমিটি নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘চর্বিতচর্বণ’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কিছুক্ষণ আগে বক্তব্য যে দিয়েছেন, আমাদের মনে হয়েছে এটা চর্বিতচর্বণ। ৪৫ মিনিটের অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য প্রমাণ করেছে তিনি (খালেদা জিয়া) জনগণের আস্থাশীল নন। এবং কিছু প্রশ্ন এনেছেন তা ইতিমধ্যেই আমাদের সংবিধান ও নির্বাচনী আইনেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ দান করেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি করেছিলেন, যা অতীতে দেশে কখনো ঘটেনি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একক ক্ষমতা দিলেও রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান (প্রয়াত) প্রধান বিচারপতির সাহায্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, মহা-হিসাব নিরীক্ষক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে নিয়ে চার সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ওবায়দুল কাদের বলন, ‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে তিনি (খালেদা জিয়া) যখন ক্ষমতায় ছিলেন, এখন যে সুন্দর সুন্দর ভালো ভালো কথা বলছেন এগুলো কোথায় ছিল মাগুরা উপনির্বাচনে, কোথায় ছিল ঢাকা-১০-এর উপনির্বাচনে? কোথায় ছিল মিরপুরের উপনির্বাচনে? নিজেরা যেটা প্র্যাকটিস করেন না, সেটা পিঞ্চ করা, এটা কি রাজনৈতিক সততার পরিচয়?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির কাছে খালেদা জিয়া কোনো প্রেসক্রিপশন দেওয়ার আগে তার মিথ্যাচার, ক্রমানুযায়ী হামলা, অত্যাচার ও শোক দিবসে ভূয়া জন্মদিন পালন, সন্তানের মানি লন্ডারিং মামলার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। বিএনপির প্রস্তাবে যদি ভালো কিছু থাকে আমরা মনে করি মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

ওবায়দুল কাদের, ‘যারা এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক করছেন, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা আমাদের পবিত্র সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মিথ্যাচার নতুন নয়, ক্রমাগত ভুলের কারণে তার দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ভাবে না, বিদেশের কোন দেশে কোন দল ক্ষমতায় আসে, তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (খালেদা) জনগণের ওপর আস্থা রাখেন না। ভোটে তার বিশ্বাস নেই।’

তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে কোনো ধরনের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার আগে যুদ্ধাপরাদীদের রক্ষায় মানুষ হত্যার জন্য তাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে। শোক দিবসে জন্মদিন পালনের জন্যও ক্ষমা চাইতে হবে।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *