এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয়

এসএসসি চলাকালীন কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘এসএসসি ও সমমানের ১৫ লাখ পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে এবার একটু ক্ষান্ত দেন। পরীক্ষার পর আবার শুরু (আন্দোলন) করেন।’

শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তিনি অবরোধ ডেকেই বসে আছেন। পুত্রবিয়োগের শোকও তাকে টলাতে পারল না। ছেলের লাশ পর্যন্ত বাড়িতে নিলো না, কতটা নিষ্ঠুর মা তিনি।’

তিনি শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের শুরুতে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আন্দোলনের নামে, গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিঘ্নিত করছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) আসলে কী চান?’

বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে দাবি করে তিনি পরীক্ষার মধ্যে কর্মসূচি না দিতে খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্তত পরীক্ষার্থীদের ক্ষ্যান্ত দিন। পরীক্ষার পর না হয় আপনাদের কর্মকাণ্ড ফের শুরু করেন। কিন্তু আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। তারাই তো দেশের ভবিষ্যৎ। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে আপনার কি লাভ হবে?’

তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) ছেলে মারা গেল, আমি সহানুভূতি জানাতে গেলাম। তিনি তার কার্যালয়ে তালা মেরে দিলেন। এ রকম অভদ্রতা কেউ করেছে কিনা আমার জানা নেই।’

বিএনপি নেত্রী দেশ ও মানুষের ভালো দেখতে পারেন না অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দেখে তাদের সহ্য হচ্ছে না। আর সেজন্য দেশের মানুষ পুড়িয়ে মারছে। এ সব সহিংসতার টাকা তারা কোথা থেকে পাচ্ছে?’

বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের মতো জঙ্গি কায়দায় মানুষ মারছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘যারা পুড়ে মারা যাচ্ছে তাদের কেমন করুণ মৃত্যু হচ্ছে তা কি তারা বোঝেন? আর যারা বেঁচে যাচ্ছেন তাদের কী যে জ্বালা নিয়ে থাকতে হচ্ছে, তাও কি তারা বোঝেন? তারা ভবিষ্যতে কী করবে?’

দেশের মানুষের প্রতি জিঘাংসা থেকেই খালেদা পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিচ্ছেন কিনা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া হিরোইনের মতো কার্যালয়ে বসে আছেন। বিভিন্ন দলের নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন। আর মানুষ পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন।’

শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, যাকে পুত্রশোকও ছুঁয়ে যায় না, তাকে অবরোধ-সহিংসতায় মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু টলাবে কী করে?

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এজন্যই তারা বলতে পারছে কীসের আবার পরীক্ষা। আসলে মানুষের রক্তই বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রেরণা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আর কত রক্ত চান? আর কত লাশ চান? আর কত লাশের বিনিময়ে তিনি এ ধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধ করবেন?’

তিনি বলেন, ‘সত্যিই বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য। যখন দেশ এগিয়ে যায় তখন কেউ না কেউ ব্যাঘাত ঘটায়। আমাদের এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এগিয়ে যেতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সহিংসতা প্রতিরোধে যা করার দরকার তাই করব। এজন্য দেশবাসীর সাহায্য প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি পেট্রোল বোমা মেরে চুরমার করা হচ্ছে। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। পাকিস্তানীরাও ১৯৭১ সালে এমনটি চেয়েছিল। যে আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই সেটা আবার কোন আন্দোলন?’

তিনি বলেন, দেশকে এ কোন জল্লাদখানা বানাতে চাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত! ছেলে হারিয়ে যার নিজের শোক নেই, সে মানুষের শোক কি বুঝবে? ছেলের মৃত্যু পর তো তিনি অবরোধ তুলতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচন করতে চাননি। আমি নিজে ফোন করেছি। কত অপমানিত হয়েছি। সে কথা চিন্তা করবে না মানুষ। সব জেনে, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে আমি ফোন করেছিলাম। ফোন করে যা শুনেছি তাতে তো আমি অভ্যস্ত না।’

কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল করিম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *