এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
খেলা

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশজাতীয় পতাকা দিবসে ক্রিকেট মাঠে জয়ের পতাকা উড়াল টাইগাররা। বুধবার পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

আনোয়ার আলীর করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলটা ডিপ মিড উইকেট দিয়ে আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে। সঙ্গে সঙ্গেই জয়ের বুনো উল্লাসে মাতেন মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফিরা। ওই মাহেন্দ্রক্ষণে কেঁপে উঠে মিরপুর স্টেডিয়াম। সঙ্গে গোটা বাংলাদেশও। টাইগারদের এই জয়ে এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেল বিবর্ণ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। ৬ মার্চ ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে লড়বে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলো টাইগাররা। এর আগে ২০১২ সালেও ফাইনাল খেলেছিল লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২৯ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত প্রয়াসে ১৯.১ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

১৩০ রানের টার্গেটে খেলতে নামা বাংলাদেশ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হারায় তামিমকে (৭)। সৌম্য-সাব্বির দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়েন। নবম ওভারে সাব্বির (১৪) ফিরেন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে। এশিয়া কাপের শুরু থেকে রান খরায় ভোগা সৌম্যর ব্যাট রানের দেখা পায় এদিন। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গেও ৩৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। একপ্রান্ত আগলে খেলে যাওয়া সৌম্য হাঁটছিলেন টি-২০ তে প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু সেটি হয়নি দলীয় ৮৩ রানে আমিরের ইয়র্ককারে এ বাঁহাতি ওপেনার বোল্ড বলে। ৪৮ বলে ৪৮ রান (৫ চার, ১ ছয়) করেন সৌম্য।

৫ রান পর মুশফিকের সময় বিরোধী শটে আত্মাহুতী চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশকে। শোয়েব মালিকের বলে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যান মুশফিক (১২)। ১৮ বলে ২৬ রানের সমীকরণে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ আমিরের করা দ্বিতীয় বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে সাকিব (৮) বোল্ড হলে। পরের দুই বলে দুটি চার মেরে সেই চাপ কাটিয়ে দেন অধিনায়ক মাশরাফি।

১২ বলে ১৮ রান দরকার ছিল। সামির করা ১৯তম ওভারে আসে ১৫ রান। যার মধ্যে দুটি নো বল এবং মাহমুদউল্লাহর মারা একটি চার ছিল। শেষ ৬ বলে ৩ রান তুলতে একটি বলই ব্যয় করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহ। মাশরাফি ৭ বলে অপরাজিত ১২ ও মাহমুদউল্লাহ ১৫ বলে ঝড়ো গতিতে ২২ রানের মহামূল্য ইনিংস খেলেন অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আমির ২টি উইকেট পান।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই কাঁপিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। তারপরও পঞ্চম উইকেটে শোয়েব মালিক-সরফরাজ আহমেদের প্রতিরোধে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান। তারা ৮.২ ওভারে যোগ করেন ৭০ রান। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের তোপে পড়ে ১২ ওভার শেষেও পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪৬ রান। পরের ৮ ওভারে ৮৩ রান তুলে দলটি।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আল-আমিনের বলটা খুররম মানজুরের (১) ব্যাটে চুমো দিয়ে মুশফিকের গ্লাভসে জমা পড়ে। নিজের প্রথম ওভারে আরাফাত সানি বোল্ড করেন শারজিল খানকে (১০)। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে মাশরাফির বলে এলবির ফাঁদে পড়েন হাফিজ (২)। যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে বলটা স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে যাচ্ছিল। রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকা উমর আকমল (৪) তাসকিনের শিকারে পরিণত হন নবম ওভারে।

১৩তম ওভার থেকেই ত্রাতার ভূমিকায় থাকা শোয়েব মালিক-সরফরাজ ব্যাট হাতে চড়াও হন। তাদের জুটিটা ভাঙে শোয়েব মালিক আরাফাত সানির বলে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়লে। ৩০ বলে ৪১ রান (৫ চার, ১ ছয়) করেন তিনি। পাক অধিনায়ক আফ্রিদিকে রানের খাতা খোলার সুযোগই দেননি আল-আমিন। ইনিংসের শেষ ওভারে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সরফরাজ। ৪২ বলে ৫৮ রানের (৫ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১৩ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন আনোয়ার আলী। বাংলাদেশের আল-আমিন ৩টি, আরাফাত সানি ২টি, মাশরাফি-তাসকিন ১টি করে উইকেট পান।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *