এরশাদ সরকারের পতনের ২৭ বছর পূর্তি

এরশাদ সরকারের পতনের ২৭ বছর পূর্তি

14
0
SHARE

এরশাদ সরকারের পতনের ২৭ বছর পূর্তি তাহসিন আহমেদ

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৯০ সালের এই দিনে সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সাল নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। জনগণকে সাথে নিয়ে সকল বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে।

৪ ডিসেম্বর ১৯৯০ বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভিতে মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত কিছুক্ষণ পর পর দুটি ভাষণ প্রচারিত হতে থাকে। একটি ভাষণে ৮-দলীয় জোট নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন-
শত শহীদের আত্মাহুতির বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের অগ্রযাত্রাকে… দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে তিন জোট কর্তৃক ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর অবাধ ও মুক্ত পরিবেশে সার্বভৌম সংসদ নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হয় ও জনগণ যাতে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ করে দেশবাসী যেমনিভাবে চলমান আন্দোলনকে বর্তমান পর্যায়ে এনে উপনীত করেছেন, তেমনিভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা অতীতের ন্যায় দৃঢ় ভূমিকা পালন করবেন। শত শহীদের রক্তের প্রতি আমাদের এই অঙ্গীকার পালনে আমি দেশবাসীর সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।

আর একটি আড়াই মিনিটের ভাষণে ৭-দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছিলেন-
আপনাদের সকলের আন্দোলনের ফলে স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একটি সুখী সমাজ গড়ে তোলার কাজ আমাদের শুরু করতে হবে। এই পথ দীর্ঘ ও বন্ধুর। আজ এ জন্য আমাদের সকলকে হতে হবে ধৈর্যশীল ও সংযমী। ভাবাবেগে জড়িত যেকোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। পরিণামে দেশ ও জনগণের জীবনে নেমে আসবে হতাশা।

Comments

comments