জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান ইন্তেকাল করেছেন

জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান ইন্তেকাল করেছেন

জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান ইন্তেকাল করেছেনজাতীয় অধ্যাপক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম আর খান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শনিবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

ডা. এম আর খান বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে কয়েক মাস ধরে ভুগছিলেন। তিনি সেন্ট্রাল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. এম এ কাশেম বলেন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ও দেশের বাইরে তার দুই-তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

এম আর খান নামে সর্বাধিক পরিচিত জাতীয় অধ্যাপকের পুরো নাম মোহাম্মদ রফি খান।

এম আর খানের ব্যক্তিগত সহকারী এস এম সেলিম জানান, দীর্ঘ আট মাস তিনি সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২১ দিন ধরে তিনি ছিলেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

আগামীকাল সকাল ১০টায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতীয় অধ্যাপকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর দাফন অনুষ্ঠিত হবে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়।

শিশু বিশেষজ্ঞ ও মিরপুর ইন্সটিটিউট অব চাইল্ড হেলথের পরিচালক ড. এখলাসুর রহমান বলেন, এমআর খান ছিলেন বাংলাদেশে শিশু বিভাগের প্রথম অধ্যাপক। এমন কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ নেই যিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্যারের ছাত্র ছিলেন না। তাকে বলা হয়, ‘ফাদার অব পেডিয়াট্রিশিয়ান অ্যান্ড ইন্সটিটিউশন’।

চিকিৎসায় অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন। চলতি বছরের ২৪ মার্চ এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাধীনতা পদক পরিয়ে দেন।

১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান। ১৯৫২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে এডিনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনে ভর্তি হন। পরে এডিনবার্গের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে এডিনবার্গ থেকে ফেলো অব রয়েল কলেজ অ্যান্ড ফিজিশিয়ানস (এফআরসিপি) ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬২ সালে দেশে ফিরে আসেন এম আর খান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিশু বিভাগে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন এম আর খান। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর নয়টি একাডেমিক গ্রন্থ ও বহু প্রবন্ধ আছে, যা দেশে ও বিদেশে সমাদৃত।

এম আর খান পেনশনের টাকা দিয়ে গড়েন ডা. এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। দুস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, তাদের আর্থিক-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চবিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তিনি দেশ থেকে পোলিও দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন, কাজ করেছেন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান ‘আধূনিক’-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *