দনিয়ার ঐতিহ্যঃ এনায়েত ফুচকা হাউজ

দনিয়ার ঐতিহ্যঃ এনায়েত ফুচকা হাউজ

310
0
SHARE

এনায়েতের ফুচকার দোকান মূলত ঝাল জাতীয় খাবার চটপটি ও ফুচকাপ্রেমী সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মির্জা রাইয়ান আহমেদ তৌসিফ
এনায়েতের ফুচকার দোকান মূলত ঝাল জাতীয় খাবার চটপটি ও ফুচকাপ্রেমী সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ডাবলি বুট দিয়ে তৈরি এ ধরনের খাদ্যের চাহিদা সারা বছর প্রায় একই রকম থাকে। স্কুল, কলেজ, বাস-স্ট্যান্ড, বিভিন্ন রাস্তার মোড়, মেলা ইত্যাদি স্থানে চটপটির ব্যবসা বরাবরই লাভজনক বলে মনে করেন এর বিক্রেতারা। ফলে এ জাতীয় খাবারের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারের সংখ্যাও সারা দেশে নিতান্ত কম নয়। কম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রসার ঘটছে এসব ভ্রাম্যমাণ স্বল্পপুঁজির ব্যবসার।

ফুচকা-চটপটির ব্যবসা করে সফল হওয়া মানুষদের মধ্যে অন্যতম নাম হলো মোঃ এনায়েত হোসেন(৩৭)। ঢাকার দনিয়াতে তার মালিকানাধীন দোকানের নাম ‘এনায়েত ফুচকা হাউজ’। ঢাকা দক্ষিণ সিটির যাত্রাবাড়ী-দনিয়া-ডেমরার প্রায় বেশিরভাগ মানুষের কাছে প্রিয় এই এনায়েত ফুচকা হাউজ।

এখন থেকে ঠিক ২৫ বছর আগে ১৯৮৯ সালে ১০ বছর বয়সে ছোট পরিসরে শুধুমাত্র একটি পড়ার টেবিল দিয়ে এই ফুচকা হাউজের কার্যক্রম শুরু করেন এনায়েত হোসেন। ঢাকার খিলগাঁও তালতলা মাঠের নিজাম মোল্লা নামক এক ফুচকা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নিজের ব্যবসা শুরু করেন।

নিজের ব্যবসা শুরু করতে তার পুঁজি ছিলো মাত্র এক হাজার টাকা। প্রতি প্লেট ৫-১০ টাকায় বিক্রি করে তার প্রথম দিনের আয় ছিলো ১০০ টাকা। এরপর ধীরে ধীরে আয় বাড়লে ২০১৩ সালের শেষের দিকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা ভাড়ায় নতুনভাবে দোকান তৈরী করেন। নতুন দোকান তৈরীতে ২০ লক্ষ টাকা পুঁজি খাটান। তার অধীনে বর্তমানে ১৩ জন কর্মচারী কাজ করেন। অত্যন্ত পরিষ্কার,মনোরম পরিবেশে প্রায় ১০০ এর অধিক মানুষের বসার ব্যবস্থা আছে নতুন জায়গাতে।

শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং গ্রাহকের সুবিধার জন্য টোকেন ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বর্তমানে তার মাসিক আয় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মতো। তার বর্তমান মাসিক খরচ ৩ লক্ষ টাকার।

ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক এসে এনায়েতের এই ফুচকা-চটপটি খেতে আসেন। বাসাবো থেকে ইয়াসিন আহমেদ তার ৪ বছর বয়সী ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন এনায়েতের এই স্পেশাল ফুচকা-চটপটি খেতে।তারা বলেন “ছুটির দিনে ফুচকা-চটপটি খাবার ইচ্ছে হলেই তারা ছুটে আসেন এইখানে কেননা সুন্দর পরিবেশ এবং পারিবারিক সাময়িক আনন্দের জন্য এই জায়গাটিকেই তারা বেছে নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন”।

শ্যামবাজারের বাসিন্দা মসরুফ আহমেদ বলেন তিনি প্রায়ই তার বন্ধুদের নিয়ে এসে পড়েন দনিয়াতে অবস্থিত এই ফুচকা হাউজে।

এনায়েতের এই স্পেশাল ফুচকা-চটপটি খেতে হলে ঢাকার যে কোনো প্রান্ত থেকে যাত্রাবাড়ীতে আসতে হবে। যাত্রাবাড়ী আসতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হতে পারে। তারপর যাত্রাবাড়ী থেকে দনিয়ার বর্ণমালা স্কুলের উদ্দেশ্যে রিক্সা করে রওনা দিলে ২০ টাকা দিয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন “এনায়েত ফুচকা হাউজ” এর ঠিকানা-
৮১৭/৪৫,বর্ণমালা স্কুল রোড,নয়াপাড়া,দনিয়া,যাত্রাবাড়ী,ঢাকা-১২৩৬।

প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ১১:৩০ পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। প্রতি প্লেট ফুচকা-চটপটি ৫০ টাকা। ফুচকা-চটপটি বাদেও কোমল পানীয় ব্যবস্থা রয়েছে। মোঃ এনায়েত হোসেন তার পরিবার নিয়ে বর্তমানে দনিয়াতেই থাকেন। তার পরিবারে মা-বাবা, স্ত্রী এবং ৩ সন্তান আছেন। স্ত্রী গৃহবধু এবং ৩ সন্তান দনিয়ায় অবস্থিত ব্রাইট স্কুল এন্ড কলেজ এ অধ্যয়নরত।

লেখকঃ ইউরোপিয়ান ষ্ট্যাণ্ডার্ড স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন

Comments

comments