একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চতুর্থ তালিকা প্রকাশ

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চতুর্থ ও শেষ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে ৮২ হাজার ৫৪৪ আবেদনকারীর সবাই ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চতুর্থ ও শেষ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে ৮২ হাজার ৫৪৪ আবেদনকারীর সবাই ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চতুর্থ ও শেষ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে ৮২ হাজার ৫৪৪ আবেদনকারীর সবাই ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এখনও যারা ভর্তি হননি কিংবা পছন্দ মতো কলেজে সুযোগ পাননি তারা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে যে কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা জানান।

চতুর্থ তালিকা www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

গত তিন দফায় যারা ভর্তির জন্য আবেদন করেননি কিংবা সুযোগ পেয়ে ভর্তি হননি তারা ফি ছাড়া গত ১৩ থেকে ২১ জুলাইয়ের আবেদন করে। বৃহস্পতিবার তাদের তালিকা প্রকাশ করা হলো। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২৫ ও ২৬ জুলাই ভর্তি হতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, এখনও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৫১১জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারেনি। যারা ভর্তি হতে পারেনি তারা আগস্ট মাস পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবে। এখনও ২ লাখ আসন খালি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

তিনি জানান, সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ দফায় ৮২ হাজার ৫৪৪ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল, তারা সবাই ভর্তি হতে পেরেছে। আর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন উত্তীর্ণ হয়।
মন্ত্রী জানান, শুধু ঢাকা বিভাগে ১৪টি কলেজে ১ জন ছাত্রও ভর্তির জন্য আবেদন করেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভর্তি বাণিজ্য বন্ধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান।

একজন শিক্ষার্থীও পায়নি ১৪৮ কলেজ

চলতি শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের ১৪৮টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। এছাড়া আরও প্রায় ১৫০০ কলেজ রয়েছে ছাত্র সংকটে। এ অবস্থা এসব কলেজ কেন কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি বা কেন কম হয়েছে তা খুঁজে বের করবে আন্তঃবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হবে ব্যাখ্যা। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন আন্তঃবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক।

গত ২৯শে জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ২৬শে জুলাই পর্যন্ত। গত ১লা জুলাই একাদশ শ্রেণীতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ৮টি সাধারণ বোর্ডের সঙ্গে মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৯৩৩টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন রয়েছে।

এবার ঢাকা বোর্ডের ১৪টি কলেজ এবং কুমিল্লা বোর্ডের ৬টি কলেজে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি বলে বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডের ১৫টি, যশোর বোর্ডের ১০টি, চট্টগ্রামে ১টি, বরিশালে ১টি, সিলেটে ৫টি এবং দিনাজপুর বোর্ডের ১৬টি কলেজের একাদশ শ্রেণীতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। কারিগরি বোর্ডের অধীন ৭২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ৮টি মাদরাসায়ও কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

অধ্যাপক আবু বক্কর মনে করেন, কলেজগুলোর মান ভাল না হওয়ায় সেখানে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। অবশ্য উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে কলেজগুলোতে আসন বেশি থাকায় শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজেই ভর্তি হয়েছে, এক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানান তিনি। তবু যেসব কলেজে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *