ঈদের বাংলা চলচ্চিত্র: সেই সময়, এই সময়

আমাদের সময়ে ঈদের সেরা আকর্ষণ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রগুলো । রোজার শুরু থেকেই আমরা ঈদের দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম ।

আমাদের সময়ে ঈদের সেরা আকর্ষণ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রগুলো । রোজার শুরু থেকেই আমরা ঈদের দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম । ফজলে এলাহী

আর দুদিন পর ঈদ । ঈদ আসলেই আমার চোখে ভেসে উঠে কিছু রঙিন মুখ, মনে পড়ে যায় রঙিন দিনের রঙিন অনেক ছবির কথা । আজ আপনাদের আমার সেই রঙিন দিনের ঈদের ছবিগুলো কিছু স্মৃতিকথা বলবো ।

আমাদের সময়ে ঈদের সেরা আকর্ষণ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রগুলো । রোজার শুরু থেকেই আমরা ঈদের দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম । কারণ সেইসময়ে ঈদে মুক্তি পেতো দারুন সব জমজমাট তারকাবহুল ছবি । সেই শিশুকাল থেকেই পরিবারের সাথে সিনেমা দেখতে যেতাম সেই থেকে শিশুকালেও পরিবারের সাথে ঈদের ছবি দেখেছি যা কৈশোর ,তারুণ্য নিয়মিত চালিয়ে গেছি । ঈদের ছবি সিনেমা হলে না দেখলে আমাদের ঈদের আনন্দটাই পূর্ণ হতো না। প্রতিটি সিনেমা হল ঘুরে ঘুরে সপ্তাহ ধরে ঈদের ছবিগুলো দেখতাম। ঈদের ছবি ‘লড়াকু ‘ দিয়েই চলচ্চিত্রে এসেছিলেন কংফু নায়ক রুবেল , বাংলা চলচ্চিত্রের ‘ফ্যাশন আইকন’ চিরসবুজ সালমান শাহ , রিয়াজ , চিত্রনায়িকা মৌসুমি , সোনিয়া প্রমুখও । ঈদের ছবির মাঝেই কংফু নায়ক রুবেলকে পেয়েছিলাম বলিউডের সালমানের রোমান্টিক চরিত্রে ‘স্বজন’ ছবিতে। ঈদের ছবিতেই পেয়েছিলাম কাঞ্চন মৌসুমি , রুবেল মৌসুমি জুটির মতো নতুন নতুন জুটি ।

মাসখানেক আগ থেকেই ঈদের ছবিগুলোর বিজ্ঞাপন দিতো ইত্তেফাক পত্রিকায় ও বাংলাদেশ বেতারে যা আমরা নিয়মিত লক্ষ্য রাখতাম । এই বিজ্ঞাপনের উপরেই নির্ভর করতো আমরা কোন ছবিটি আগে দেখবো আর কোনটি পরে দেখবো তা । চাঁদরাতের সন্ধ্যায় পাড়ার বন্ধুরা মিলে রিক্সা, বাইসাইকেলে সারা শহরের সবগুলো সিনেমাহল ঘুরে ঘুরে জেনে নিতাম কোন ছবি কোন হলে এসেছে । ঈদের ছবির মাঝে নিয়মিত থাকতেন জসিম ,আলমগীর, সোহেল রানা, রুবেল ,মান্না ,ইলিয়াস কাঞ্চন আর সালমান সানীর যুগে উল্লেখিতদের সাথে সালমান সানীর ছবিগুলোও মুক্তি পেতো । একেকটি ছবি থেকে একেকটি ছবি দারুন লাগতো । পরিলচালকদের মধ্যে দেলোয়ার জাহান ঝনটু, শহিদুল ইসলাম খোকন , শিবলি সাদিক, মোতালেব হোসেন, মনোয়ার খোকন, মমতাজুর রহমান আকবর, দেওয়ান নজরুল , সোহানুর রহমান সোহান ,গাজী মাজহারুল আনোয়ারের, আমজাদ হোসেন ,এ জে মিন্টু’র মতো বাঘা বাঘা ও সফল পরিচালকদের ছবিগুলো ঈদে মুক্তি পেতো । নবীন প্রবীণ সেরা পরিচালকদের দারুন সব ছবি দেখার জন্য প্রতিটি সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় থাকতো । সেই সুযোগে সিনেমা হলের ব্ল্যাকার’রা টিকেটের দাম ৫ থেকে ৭/৮ গুন বেশি কখনও কখনও ১০ গুন বেশিও দাবী করতো । সিনেমা পাগল মানুষেরা সেইসব তোয়াক্কা না করেই যে যার আগে টিকেট কেটে সিনেমা হলে ঢুকার চেষ্টা করতো আর পছন্দের তারকার পছন্দের ছবি দেখে তৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফিরতো । ছবি দেখার পর বন্ধুদের আড্ডায় যে যার প্রিয় তারকার ছবি নিয়ে যুক্তিতর্ক করতো।

কত ঈদে কতগুলো ছবি দেখেছি সেটা হিসাব করে বলতে পারবো না। শুধু বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে সিনেমা হলে দেখা উল্লেখযোগ্য ঈদের ছবিগুলো হলো দেওয়ান নজরুলের কালিয়া, বাংলার নায়ক , রাজ্জাকের প্রেম শক্তি, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের শর্ত, স্বাধীন, ক্ষুধা, উল্কা, তপস্যা, শহিদুল ইসলাম খোকনের লড়াকু, দুঃসাহস, রাক্ষস, পালাবি কোথায় , মোতালেব হোসেনের হিংসা, স্ত্রী হত্যা, ভালোবাসার ঘর ,এ জে মিন্টুর বিশ্বাসঘাতক , বাংলার বধূ , সোহানুর রহমান সোহানের কেয়ামত থেকে কেয়ামত, স্বজন, বিদ্রোহী কন্যা, দেলোয়ার জাহান ঝনটু’র জজ ব্যারিস্টার, কন্যাদান, হারানো প্রেম ,বাদল খন্দকারের বিশ্বনেত্রী, কামাল আহমেদের অবুঝ সন্তান, নায়ক উজ্জলের পাপের শাস্তি, মুখসেলুর রহমানের স্বপ্নের ঠিকানা , মমতাজুর রহমান আকবরের ডিস্কো ড্যান্সার, কে আমার বাবা, খলনায়ক, গুন্ডা নাম্বার ওয়ান, কুক্ষ্যাত খুনি, জীবন এক সংঘর্ষ, ভয়ানক সংঘর্ষ, নাদিম মাহমুদের মহাসম্মেলন, শাহ আলম কিরনের বিচার হবে , উত্তম আকাশের মুক্তির সংগ্রাম এর ছবিগুলোর মতো অসংখ্য অসংখ্য দারুন দারুন সব ছবি যেগুলোর নাম সব লিখতে গেলে লিখাটি অনেক বড় হয়ে যাবে। এই ঈদের ছবি দিয়েই আমরা পেয়েছিলাম কংফু নায়ক রুবেলকে (লড়াকু), ‘লাভার বয়’ স্টাইলিশ সালমান শাহ, মৌসুমি নামের তারকাদের(কেয়ামত থেকে কেয়ামত)। এই ঈদের ছবিতেই কংফু নায়ক রুবেল’কে প্রথম দেখলাম বলিউডের রোমান্টিক হিরো সালমানের চরিত্রে (স্বজন) । সেই সময়ের ঈদের ছবিগুলো একটির চেয়ে আরেকটি ছিল দারুন , ব্যতিক্রম ও উপভোগ্য । উল্লেখ্য যে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত আমার সব ছবি পরিবারের সাথে সিনেমা হলে দেখা সেটা ঈদ হোক আর সাধারন দিনগুলো হোক সবই। মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পুরোটা প্রায় পুরোটা সময়ের সিনেমাগুলো দলবেঁধে বন্ধুদের সাথে দেখা।

ঈদের ছবিগুলো দেখার প্রস্তুতি নিতাম আমরা প্রায় মাসখানেক আগ থেকে ।সেই সময় ঈদে সম্ভাব্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো দারুন সব অনুষ্ঠান । প্রতি ছবির আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপনধর্মী বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো থাকতো ১০ মিনিটের (সিনেমা বিষয়ক এই ধরণের অনুষ্ঠানগুলো সারা বছরই চলতো)। সেই বিজ্ঞাপনগুলোর উপর আমাদের অনেকাংশে নির্ভর করে ছবি বাছাই করতে হতো কোনটা আগে দেখবো আর কোনটা পরে । এর সাথে যুক্ত হতো দৈনিক ইত্তেফাকের সিনেমার বিজ্ঞাপনের পাতা , সাপ্তাহিক চিত্রালির রিপোর্ট, পাক্ষিক ‘ছায়াছন্দ’র রিপোর্ট সবমিলিয়ে ছবি দেখা সেইসময় ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ ।চাঁদরাতের সন্ধায় আমি ও আমার পাড়ার বন্ধুরা মিলে শহরের সবগুলো সিনেমাহল ঘুরে ঘুরে ঈদের ছবিগুলোর পোস্টার দেখতাম যা ছিল খুবই মজার ও আনন্দের । পোস্টারগুলো ভালো করে দেখে পর্দায় দৃশ্যগুলো দেখতে কেমন লাগবে সেটা কল্পনা করতাম ।

ঈদের ছবিগুলো দেখার প্রস্তুতি নিতাম আমরা প্রায় মাসখানেক আগ থেকে ।সেই সময় ঈদে সম্ভাব্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো দারুন সব অনুষ্ঠান । প্রতি ছবির আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপনধর্মী বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো থাকতো ১০ মিনিটের (সিনেমা বিষয়ক এই ধরণের অনুষ্ঠানগুলো সারা বছরই চলতো)। সেই বিজ্ঞাপনগুলোর উপর আমাদের অনেকাংশে নির্ভর করে ছবি বাছাই করতে হতো কোনটা আগে দেখবো আর কোনটা পরে । এর সাথে যুক্ত হতো দৈনিক ইত্তেফাকের সিনেমার বিজ্ঞাপনের পাতা , সাপ্তাহিক চিত্রালির রিপোর্ট, পাক্ষিক ‘ছায়াছন্দ’র রিপোর্ট সবমিলিয়ে ছবি দেখা সেইসময় ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ ।চাঁদরাতের সন্ধায় আমি ও আমার পাড়ার বন্ধুরা মিলে শহরের সবগুলো সিনেমাহল ঘুরে ঘুরে ঈদের ছবিগুলোর পোস্টার দেখতাম যা ছিল খুবই মজার ও আনন্দের । পোস্টারগুলো ভালো করে দেখে পর্দায় দৃশ্যগুলো দেখতে কেমন লাগবে সেটা কল্পনা করতাম ।

আমাদের মাঝে কে রুবেলের ভক্ত, কে মান্না’র ,কে কাঞ্চনের আর কে সালমান , কে সানির ভক্ত তা কোন বিবেচ্য বিষয় ছিলো না । যে যার ভক্ত হোক সবাই ছবি দেখতে যাবো একসাথে । সবগুলো ছবি দেখতে হবে এই বিষয়ে কোন দ্বিমত ছিলো না কারও। সিনেমা হলে ছবি দেখতে যেয়ে পাড়ার বড় ভাই অথবা বড় ভাইয়ের বন্ধু এমন পরিচিত মানুষ পাওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা তাই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি সামলাতে আমাদের সবার পকেটে থাকতো রুমাল ।আমরা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে হলে ঢুকতাম আর বেরুতাম । অবশ্যই কলেজে উঠার পর আর রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে ঢুকা লাগতো না । কারণ সিনেমাহলে ছবি দেখতে গেছি সেটা তখন অভিভাবকদের কাছে খুব বড় অপরাধের বিষয় ছিল না । শুধু স্কুল পালিয়ে যেন না দেখে সেদিকটা খেয়াল করতেন । এমনও দিন গেছে যে বাসায় বলেই গিয়েছিলাম সিনেমা দেখতে যাচ্ছি । সেই সময় ঈদের দিন বা ঈদের প্রথম সপ্তাহে প্রিয় তারকার জমজমাট ছবি দেখার একটাই সমস্যা ছিল তা হলো টিকেটের চড়ামূল্য। ভিড়ের ঠেলা ও ধস্তাধস্তির কারণে কাউন্তার থেকে টিকেট কেনা ছিল দায় তাই কালোবাজারি বা ব্ল্যাকার মামারাই ছিলেন আমাদের ভরসা। টিকেটের চড়ামূল্যর কারণে এক কুরবানির ঈদের দিন সন্ধ্যার শো দেখতে গিয়ে আমরা কয়েক বন্ধু অবশেষে ৭৫ /৮০ টাকা দরে (কাউন্তার মূল্য ১৪টাকা) সিনেমা হলের ‘প্রথম শ্রেণী’ নামের একেবারের নিচতলায় পর্দার সামনে কাঠের চেয়ারে বসে মনোয়ার খোকনের ‘ ঘাত প্রতিঘাত’ নামের ছবিটি নিন্মবিত্ত শ্রেণীর দর্শকদের সাথে প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ‘নন্দিতা’ সিনেমাহলে উপভোগ করতে বাধ্য হয়েছিলাম । তবুও আমরা সিনেমা হলের সামনে থেকে ছবি না দেখে ফেরত আসিনি । প্রথম শ্রেণীতে দেখতে হবে বিধায় পাশের দুটি হলে ( দিলসাদ ও অবকাশ) থাকা প্রদর্শিত ছবিগুলো সেদিন দেখিনি কারণ নন্দিতা সিনেমা হলটি ছিল অনেক বিশাল ও অন্যগুলোর চেয়ে আরামদায়ক । প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ছবিটি এতো উপভোগ্য ছিল যে ভুলেই গেছিলাম ঘামে ভিজে শরীরের কাপড় পুরো তেনার মতো হয়ে গিয়েছিল । ঘাড় সোজা করে পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘাড় ও মাথা ব্যথার কথা একটুও টের পাইনি। ছবি শেষে বের হওয়ার পর চোখে সব ঝাপসা দেখছিলাম আমরা সব বন্ধু এবং ঘাড় ডানে বামে কোনদিকে নাড়াতে পারছিলাম না। এর মাঝে উপদ্রব হিসেবে দেখা দিলো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। যে বৃষ্টির মাঝে ভিজে রিক্সা করে আসতে আসতে ঘামে ভেজা ঈদের নতুন পোশাকটি বৃষ্টি ভেজা হয়ে গেলো যারফলে ঘরে ঢুকার সময় কেউ শরীরে ঘাম ও সিগারেটের গন্ধ ভরা উৎকট গন্ধ টের পায়নি । টের পেলে বুঝে যেতো যে সিনেমা দেখে ফিরেছি! আজ এসব আনন্দ শুধুই স্মৃতি যা আর কোনদিন ফিরে আসবে না জীবনে । খুব খুব ইচ্ছে হয় সেদিনগুলোতে ফিরে যেতে ।

সেইসময় আমরা যে যার ভক্ত হই না কেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভক্ত ছিলাম সবার আগে তাই আমাদের কাছে আজকের দর্শকদের মতো শুধু নিজেদের প্রিয় তারকার ছবিই সেরা সেই ধ্যান ধারনা পোষণ করতাম না । এমনকি আমরা সেই সময়ে তরুণ জনপ্রিয় কোন প্রিয় তারকা নেই ছবিও না দেখে থাকিনি বরং সেই ছবিটি যদি ভালো হতো তাহলে অন্যদেরও বলতাম ছবিটি দেখার জন্য । সেইসময় ঈদে রোমান্টিক, সামাজিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসি সব ধারার গল্পের ছবিই থাকতো । সব ধারার গল্পের সব অভিনেতা অভিনেত্রীর ছবিই আমরা দেখতাম । ফেইসবুকের এযুগে আজ দেখি যে যার প্রিয় তারকার ছবির পোস্টার দিয়ে ২ দিনের মাথায় ‘সুপারহিট’ তকমা দিয়ে ব্যবসায়িক গালগপ্পো প্রচার করে যা দেখে হাসি পায় । এই ধরণের প্রচারণা দিয়ে প্রিয় তারকার প্রচারণা হবে ব্যতিত সামগ্রিক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কোন উন্নতি সাধিত হবে না বরং এমন ভক্ত তারকা ও ইন্ডাস্ট্রির জন্য অভিশাপ ।

আজো ঈদ আসে ঈদ যায় কিন্তু সেদিনের মতো এফডিসি বা চলচ্চিত্র পাড়া দারুন সব ছবির পসরা সাজায় না। আজ নেই সেদিনের সেইসব পরিচালকরা যারা দর্শকদের কথা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র বানাবেন । সেদিন সিনেমা হল ছিল হাজারেরও বেশি আর আজ তার অর্ধেকও নেই । অথচ এই অর্ধেক সিনেমাহলগুলো টিকিয়ে রাখার ক্ষমতাও আজকের তথাকথিত নতুন ধারার পরিচালকদের নেই । সেদিনের সিনেমা হলের অবস্থা আরও খারাপ ছিল, আরও নাজুক ছিল কিন্তু সেইসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকরা সিনেমাহলে ঈদের ছবি দেখতে ভিড় জমাতেন । সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আজ যেখানে এফডিসি’র মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির প্রযোজক পরিচালকেরা সারাদেশে ঈদের জন্য ৪/৫ ছবি দিতে হিমশিম খায় সেখানে ‘টেলিফিল্ম’ নামের এক আজব সিনেমা হাউস নিজেদের টিভি চ্যানেলে ৭ দিনে ৭ টি নতুন ছবি মুক্তি দেয় যা এই চলচ্চিত্রের শিল্পের সাথে এক নির্মম তামাশা ছাড়া কিছুই নয় । এমন তামাশা ‘বাংলাদেশ’ নামের দেশটির সাথে কেন বারবার হয় সেটা আজো আমার মাথায় আসে না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *