আজ ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
শিক্ষাঙ্গন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম বছরে পদার্পণ

আজ ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।আজ  ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে। ৩৬ বছরে পা দেওয়া দিনটি স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৯৭৯ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। এরপর ১৯৮১ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ড. এ এন এ মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রথম ভিসি নিয়োগ করা হয়। দুটি অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে মোট ৩০০ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮২ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এক অর্ডিন্যান্স জারি করে ১৯৮০-এর (৩৭) নং অ্যাক্ট সংশোধন করেন এবং ‘আইআইইআর’কে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করেন। ফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধনী) অর্ডিনান্স ১৯৮২ (৪২)-এর ৪(বি) ধারা অনুসারে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এরশাদ সরকার ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের এক আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করেন। এর প্রতিবাদে শুরু হয় আন্দোলন। পরে ১৯৮৯ সালের ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৮৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুর থেকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। এই আদেশ ২২ জানুয়ারি ১৯৮৯ থেকে কার্যকর ঘোষণা করা হয়।

১৯৯০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার সাবেক ক্যাম্পাস শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে স্থানান্তর হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রথমে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই ভবনে ধর্মতত্ত্ব অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, কুষ্টিয়া মেডিকেল স্কুলে মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং শহরের অন্যান্য ভবনে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে একযোগে আরো ৫টি নতুন বিভাগ খোলা হয়।

ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো ছাত্রী ও ধর্ম-বর্ণ-নির্বেশেষে ছাত্রছাত্রী ভর্তির রেওয়াজ চালু করা হয়। ১৯৯২ সালের ১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ঠিকানায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদানের জন্য ১৯৯৩ সালের দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল এবং পিএইচডি কার্যক্রম শুরু হয়।

২০০৬ সালে দেশের ১২৭৭ ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাকে ডিগ্রি ও মাস্টার্স সমমর্যাদা প্রদান করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালনার জন্য ন্যস্ত করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার ২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৩১টি মাদ্রাসায় ৫টি বিষয়ে অনার্স  কোর্স খোলার অনুমতি প্রদান করে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি অনুষদের অধীন ২২টি বিভাগ তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ নামে রয়েছে একটি ইন্সটিটিউট।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল রয়েছে ৭টি। যার মধ্যে ছাত্র হল ৪টি ও ছাত্রী হল ৩টি। ফলে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করছে। বিভিন্ন বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১১,০৮৪ জন, এমফিল গবেষণারত ৪৫৫ জন এবং পিএইচডি ২৬৮ জন সর্বমোট প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫৫ জনকে এমফিল এবং ১৫৮ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩৬৭ জন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছে। যার মধ্যে অধ্যাপক রয়েছেন প্রায় ১৩৫ জন। পাশাপাশি প্রায় সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *