ইরান-ইরাকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪০০

ইরান-ইরাকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪০০

11
0
SHARE

ইরান-ইরাকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪০০ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত ৪০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬ হাজার জন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে, ৭ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্প দেশের উত্তরাঞ্চলের কারমানশাহ প্রদেশের ইরাকের সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আঘাত হানে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ, প্রতিবেশী কুয়েত ও ইসরায়েলেও তা অনুভূত হয়েছে।

ইরানের কারমানশাহ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মুজতবা নিক্কারদার বলেন, ‘এখনো অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার দূরে শারপুল-ই-জাহাব শহরে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান ডেপুটি গভর্নর। তিনি আরো জানান, এই এলাকাটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে ইরাকে সাতজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইরানের রাষ্টীয় টেলিভশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের প্রধান হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁরা শত শত আহতদের চিকিৎসা দিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা এখনও বাড়ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত তিনশ ৮২ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রাতের বেলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার উড়ে যেতে পারেনি। অনেক স্থানে সড়কপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সও যেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষত, যেসব গ্রাম কিছুটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, সেখানে দুর্গত লোকজনকে উদ্ধার ও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদল রেজা রাহমানি ফজলি।

ভূমিকম্পের পর পরই লোকজন আতঙ্কে বাড়িঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ইরানের কমপক্ষে আটটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের একটি সহায়তাকারী সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পে বাস্তুহারা হয়েছেন কমপক্ষে সাত হাজার মানুষ। তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসন প্রয়োজন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভূমিকম্প কবলিত এলাকাগুলোতে জোরেশোরে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররেজা রাহমানি ফাজলিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, কুর্দি সরকার-শাসিত সুলাইমানিয়া শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে হালাবজার কাছে ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব অনেক হলেও সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাগদাদের ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। অনেকে একে প্রথমে বিস্ফোরণ বলে মনে করলেও কম্পন এক মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় পরে একে ভূমিকম্প বলে বুঝতে পারে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটার শক হয়েছে এবং ইরানের কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, ইলাম, খুজিস্তান, হামেদান, পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব আজারবাইজান, লোরেস্তান, তেহরান, কাজভিন, যানজান ও কোম প্রদেশ থেকে তা অনুভূত হয়।

ইরানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে কেরমানশাহ প্রদেশে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, গ্রাম এলাকার কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, কম্পনে দেশের অন্তত ১৪টি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষত কারমানশাহ ও ঘসর এ শিরিনের পরিস্থিতি রীতিমত উদ্বেগজনক। এই দুই শহরের বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন।

ইরান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, প্রায় প্রতিদিন কম্পন অনুভূত হয় এখানে। ২০০৩ সালে ৬.৬ মাত্রার কম্পনে ঐতিহাসিক শহর বাম মাটিতে মিশে যায়, প্রাণহানি হয় ২৬,০০০ মানুষের।

Comments

comments