অঘোষিত ইন্টারনেট ব্লাকআউটের কবলে বাংলাদেশ

অঘোষিত ইন্টারনেট ব্লাকআউটের কবলে বাংলাদেশ

অঘোষিত ইন্টারনেট ব্লাকআউটের কবলে বাংলাদেশ অঘোষিত ইন্টারনেট ব্লাকআউট দেখলো দেশ। বুধবার দুপুর থেকেই এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট থেকে অন্ধকারে থাকতে হয়েছে ব্যবহারকারীদের। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আজ এবং আরও কয়েকদিন এমনটা হতে পারে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবার সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসি।

বিটিআরসির গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, ‘নিরাপত্তা সংস্থার সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের অনুরোধে বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বুধবার রায় দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিটিআরসির কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

এরপরই দেশের সব মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার এবং হোয়াটসঅ্যাপ সেবা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের কোন নির্দেশনা ছিল না। ওই চারটি লিংক বন্ধ করার প্রক্রিয়া হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ হতে পারে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন, এ চারটি লিংক ছাড়া টুইটার, ট্যাংগো, আইএমওসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য অ্যাপেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো বন্ধ করা হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে কোন নির্দেশনা ছিল না বলে তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্য তিনটি অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ কখনও বন্ধ রাখা হয়নি। বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের আগস্টে কারফিউয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন সেবা সাময়িক বন্ধ থাকলেও ইন্টারনেট সেবা চালু ছিল। এ ছাড়া বিটিআরসি একবার ইন্টারনেটের আপলোড গতি কমানোর নির্দেশনা দিলেও ইন্টারনেট তখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রেরিয়াল কেবল (সাবমেরিন কেবলের বিকল্প) সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে একমাত্র সাবমেরিন কেবলে সমস্যা হলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটে সেবা পেতে মাঝেমধ্যে সমস্যায় পড়তেন।

চলতি বছরের শুরুতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময়ও ‘ভাইবার’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ’সহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের কয়েকটি অ্যাপ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনার পর গত ৮ই নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে জঙ্গিরা কার্যক্রম চালাচ্ছে। জঙ্গিদের যোগাযোগ ও অর্থায়ন বন্ধে তাদের শনাক্ত করতে কিছু ‘অ্যাপ’ বন্ধ করাসহ ইন্টারনেটের ওপর ‘সাময়িক কড়াকড়ি’ আরোপের ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিটিআরসির কাছ থেকে ফেসবুক ও তিনটি ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ বন্ধ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ইন্টারনেট সেবা দেয় এমন সব প্রতিষ্ঠানকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ফেসবুক, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ রাখতে বলা হয়। বেলা ১২টার পর থেকে ক্রমে সারা দেশে এ সেবা বন্ধ হতে থাকে। বেলা একটার দিকে সারা দেশে একযোগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থা চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। তখন ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশ।

এদিকে বিকালে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যান্য অ্যাপ- যেমন ট্যাংগো, আইএমও, টুইটারসহ অন্যগুলোও নজরদারিতে রয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে গ্রাহকদের এই কষ্ট মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ হওয়া অ্যাপগুলো চালু হতে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশন-বিটিআরসি’র সচিব সারোয়ার আলম জানান, যারা গেটওয়ে সার্ভিসগুলো চালায়, তারা ভুল করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। তবে তারা মেইন সুইচটাই বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে কিছুক্ষণ ইন্টারনেট ছিল না। এটিকে কারিগরি ত্রুটি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *