‘ইতিহাস তুমি কেঁদো না, আমারও কান্না আছে’

‘ইতিহাস তুমি কেঁদো না, আমারও কান্না আছে’

‘ইতিহাস তুমি কেঁদো না, আমারও কান্না আছে’ফজলে এলাহী পাপ্পু

বাংলাদেশের পতাকার আদলে লালসবুজের উত্তরণী গলায় কাঁধে ঝুলান লোকটিকে সবাই চিনেন। চ্যানেল আই বা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর অন্যতম অংশীদার ,বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরাট চেতনাধারী হয়ে বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতিকে কৌশলে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করে যাচ্ছেন; যার সাথে মিডিয়ার অনেক নামিদামি মানুষজন জড়িত আছেন।

কিন্তু কতজনেই বা জানেন এই সাগর সাহেবের রক্তে কি সত্যি সত্যি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মিশে আছে নাকি আজ যা করছেন সবই ভণ্ডামি? প্রশ্নের উত্তরটি খুঁজে পাবেন যখন জানবেন এই সাগর সাহেব শিশুকালে ‘সন অব পাকিস্তান’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনয় করেছিলেন যার ৪০ বছর পূর্তি তিনি ঘটা করে পালন করেছিলেন ২০০৬ সালে । ঐ ‘সন অব পাকিস্তান’ ছবির কাহিনীকার, প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন তাঁর প্রয়াত বাবা ফজলুল হক

ফজলুল হক সাহেব স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কলকাতা চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন । শুধু তাই নয় ইতিহাস প্রমাণ করে ফজলুল হক সাহেব ১৯৭১ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর কলকাতায় মুক্তি পাওয়া জহির রায়হানের নির্মিত ‘স্টপ জেনোসাইড’ প্রামাণ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার দিন তিনি এর বিরোধিতা করে প্রামাণ্য চিত্রটি ভারতে মুক্তি না দেয়ার জন্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন যা নিচে হুবুহু তুলে ধরা হলো।

যে সাগর সাহেবের রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিরোধীকারীর রক্ত সেই সাগর সাহেব কি করে আজ মুক্তিযুদ্ধের এমন চেতনাধারী হলেন কিংবা কিসের আশায় সাগর সাহেবের এই মুখোস পরিহিত আস্ফালন? এই জন্যই তো বলি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প টেলিভিশন পর্দায় নামিয়ে এনে মৃতপ্রায় চলচ্চিত্র শিল্পকে কবরে পাঠানোর জন্য এতো উৎসাহী হলেন কেন সাগর সাহেব ও তাঁর ভক্তকুলেরা?

এই সাগর সাহেবদের বিরুদ্ধে কথা বললে আজনিজের জীবন হুমকির মুখে পড়বে ,কিন্তু তবুও পারিনা চুপ করে থাকতে । সাগর সাহেব যেদিন একুশে পদক পেলেন সেদিন আমার মনটা সারাক্ষন বলেছিল বাংলাদেশের ‘ইতিহাস তুমি কেঁদো না ,আমারও কান্না আছে’

ফজলুল হক সাহেবের লেখা সেই চিঠির হুবহু

[ভারতে জহির রায়হান পরিচালিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক ফজলুল হক-এর চিঠি। সূত্র: বাংলাদেশ সরকার, রাষ্ট্রপতির দফতর।
তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ ইং
]

জয় বাংলা
বাংলাদেশ সরকার
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়

Memo No. PS/ SEC/ III/ II0, Dated 10th Sept., 1971

To
The Prime Minister,
Government of Bangladesh
Sub : Letter of Mr. Fazlul Huq, regarding exhibition of a documentary film produced by Mr. Zahir Raihan.

Please find enclosed copy of the letter of Mr. Fazlul Huq, the film producer-Director of Bangladesh. The letter is self-explanatory. I would request you to kindly look into the charges leveled by Mr. Fazlul Huq and decide the matter on its own merit keeping in view the best interest of our country.

Action taken in this respect may please be intimated to me in due course.

(Syed Nazrul Islam)
Acting President
Enc 1 Copy of letter
(1 sheet)

______________________

Sir,
This is to to put a serious matter, in my belief a matter of great National Importance, before your honour regarding a documentary film directed by Zahir Raihan, which we have viewed to-day in a private show in Calcutta.

This documentary is being financed by Eastern India Motion Picture Association and being produced by Bangladesh Chala Chitra Silpi o Kalakushali Samity in association with Bangladesh Liberation Council of Intelligentia. This would be sold to Indian Government to show it in India and other countries.

The film start with a photo of V.I. Lenin and with his wordings shows nothing but little of refugees in India and a little part of our Liberation Army Training Camp. But the serious setback is, in my opinion, that there is not a single shot or word about our beloved leader Bangabondhu Sheikh Mujibur Rahman or Awami League or the Six Points.

I believe if this film is shown in India or abroad, the viewers shall have the belief that our liberation is being guided by something else and not the points we believe in.

If the film has been made by any Indian Director, we shall reserve our comments, but when it is made by a Director of Bangladesh we cannot sit idle.

I, personally, protest against this film and I request you to immediate action to stop this film before it is shown to the public through the Indian Government.

If it is not done, I alone, am ready to start a movement.
With deepest regards,

Sd/- Fazlul Huq
Film Producer-Director of Bangladesh
C/o. Mr. Benoy Roy, 114/A, Park St.
Calcutta – 17

তথ্যসূত্র
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র (প্রথম খন্ড)
সম্পাদনা : মাহমুদউল্লাহ ॥ [ গতিধারা – মার্চ, ১৯৯৯ । পৃ: ৪৬০-৪৬১ ]

কৃতজ্ঞতা সাদ হাসান।

১ thought on “‘ইতিহাস তুমি কেঁদো না, আমারও কান্না আছে’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *