‘ইতিহাস কখনো মুছে যায় না’

‘ইতিহাস কখনো মুছে যায় না’

13
0
SHARE

‘ইতিহাস কখনো মুছে যায় না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। তিনি জাতির গর্ব সমুন্নত রাখতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে স্বীকৃতি পাওয়া ভাষণগুলো ছিল লিখিত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ লিখিত ছিল না। এই ভাষণের জন্য কোনো ‘নোটস’ ও বঙ্গবন্ধুর হাতে ছিল না। ৭ মার্চে ভাষণ দেওয়ার আগে সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বঙ্গবন্ধুকে আলাদা ডেকে নিয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ‘অনেকে অনেক কিছু বলছে। কিন্তু তুমি তাই বলবে যা তুমি ভালো মনে করো।’।

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল নাগরিক সমাবেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ৪৬ বছর আগে এখানেই বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৌরবোজ্জ্বল এই ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তি এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ পদর্শক।

অতীতের মতো ধ্বংসাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কেউ জাতির উন্নত মস্তক অবণত করতে না পারে সেজন্য তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উদযাপনে লাখ লাখ লোক সমাবেশে অংশ নেয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এই ঐতিহাসিক ভাষণের মাত্র ১৮ দিন পর জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

প্রফেসর এমিরিটাস ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর এমিরিটাস ড. রফিকুল ইসলাম এবং খ্যাতিমান লেখক শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর ইকবাল। হাসানুল হক ইনু, কাদের সিদ্দিকী এবং ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা’র মত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও সমাবেশে যোগ দেন।

ঢাকায় ইউনেস্কো’র কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ বিয়াট্রিস কালদুন, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলি নাসরিন চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতিদানের জন্য ইউনেস্কো মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান। সমাবেশে বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ, শাহীন সামাদ এবং সাজিদ আকবরের পরিবেশিত রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি, দেশাত্মবোধক এবং লোক সঙ্গীত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

কবি নির্মলেন্দু গুণ ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি পাঠ করেন এবং আসাদুজ্জামান নূর, কবি সৈয়দ শামসুল হকের ‘পরিচয়’ কবিতা আবৃত্তি করেন।
ইউনেস্কো গত ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে সংরক্ষণের ঘোষণা দেয়।

বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত হয় গান ও কবিতা। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা পাঠ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র, নজরুল আর মরমী কবি লালন শাহের গান। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী সঞ্চালনা করেছেন।

নাগরিক সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন। তারা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও ৭ মার্চের ভাষণের ছবি সম্বলিত প্লাকার্ড বহন করেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে মূল মঞ্চ সাজানোসহ সমাবেশস্থলের আশপাশ এলাকা সাজানো হয় হয়েছে বর্ণিল সাজে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের পাশের গেইট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রবেশ করেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে তিন নেতার মাজার পর্যন্ত পাঁচটি গেইট দিয়ে সাধারণ জনগণ প্রবেশ করেন।

Comments

comments