ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৭
আন্তর্জাতিক

ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৭

ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৭ইতালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৩৬৮ জন।

এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবারের ৬ দশমিক ২ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে আমেত্রিস শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে মারা গেছেন ৮৬ জন।

এরই মধ্যে সেখানে উদ্ধারকাজে ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। খালি হাতেও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।

প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহতদের চিকিৎসা এবং সর্বোচ্চ সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বুধবারের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম্ব্রিয়া, লাজিয়া আর লা মার্সের মতো ছোট ছোট পাহাড়ি শহরগুলো।

ইতালির রেড ক্রসের মুখপাত্র টমাসো ডেলা লংগা বলেন, ‘যে মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা ভয়াবহ। শহরের কিছু অংশ মাটির সাথে প্রায় মিশে গেছে। এই অবস্থার মধ্যে আমরা রাতের খাবার তৈরি করার জন্য কিছু রান্নার ব্যবস্থা করছি। সেটি যদি সম্ভব না হয় তাহলে আগামীকাল আমরা খাবার তৈরি করব। দিনভর সবচেয়ে বড় সমস্যাটি ছিল ট্রাক এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলোতে নিয়ে যাওয়া।’

এর আগে ঐ এলাকা পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী মাটিও রেনজি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভূমিকম্পের পরপরই রাতেরবেলা সেখানে উপস্থিত হয়ে খালি হাতে জীবিতদের উদ্ধার করার জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবক এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের প্রতিও তিনি সম্মান জানান।

ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া আরেকটি শহর আক্কুমোলির মেয়র স্টেফানো পেত্রুচ্চিস বলেন, তিনি আর জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা করছেন না। এখন তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আক্রান্ত মানুষদের জন্য রাত কাটানোর সুব্যবস্থা করা।

মধ্য ইতালিতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও পুরো দেশজুড়েই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দিনভর আরও কিছু ভূকম্পন অনুভূত হয় ঐ এলাকায়।

ইতালিতে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ২০০৯ সালে, যাতে তিন শতাধিক মানুষ মারা যায়। এছাড়াও ২০১২ সালে নয় দিনের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্পে ২০ জনের বেশি নিহত হয়।

ইতালির ১৩টি ভয়াবহ ভূমিকম্প

২৪ আগস্ট, ২০১৬ : আম্ব্রিয়া, মার্চে ও ল্যাজিও অঞ্চলের মাঝের পাহাড়ি গ্রামে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন মারা যায়।

মে, ২০১২: এমিলিয়া রোমাগনা অঞ্চলে ১০ দিনের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্পে ২৩ জন মারা যায় এবং ১৪ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়।

৬ এপ্রিল, ২০০৯ : ইতালির মধ্যাঞ্চলে ভূমিকম্পে ৩০৯ জন মারা যায়। গৃহহারা হয় অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ।

৩১ অক্টোবর, ২০০২ : মোলিসের পূর্বাঞ্চলের গ্রাম সান গুইলিয়ানো ডি পুগলিয়ায় ভূমিকম্পে ৩০ জন মারা যায়, ৬১ জন আহত হয়। এদের ২৭ জনই শিশু, যারা তাদের স্কুল ভবনটি ধসে পড়লে চাপা পড়ে মারা যায়।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০০২ : সিসিলির পালেরমোতে ভূমিকম্পে দুজনের মৃত্যু হয়।

১৭ জুলাই, ২০০১ : ইতালির উত্তরাঞ্চলের বোলজানো শহরের কাছের গ্রাম অ্যালতো অ্যাদিগেতে ভূমিকম্পে অন্তত তিনজন মারা যায়।

২৬ সেপ্টেম্বর৩ অক্টোবর, ১৯৯৭ : এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে আম্ব্রিয়া ও মার্চে । ১২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। ৩৮ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়। বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনাও বিধ্বস্ত হয়।

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৯০ : সিসিলিতে ভূমিকম্পে ১৭ জন মারা যায় এবং আহত হয় ২০০০ জন।

৫ মে, ১৯৯০ : বাসিলিকেত অঞ্চলে ভূমিকম্পে চারজন মারা যায়।

২৩ নভেম্বর, ১৯৮০ : ক্যাম্পানিয়া ও বাসিলিকেট অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৯০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ১৩ জানুয়ারি, ১৯১৫ : আভেজ্জানোতে ভূমিকম্পে ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়।

২৮ ডিসেম্বর, ১৯০৮ : ইতালির সবচেয়ে ভয়ংকর ভূমিকম্প হয় এদিন। রেজিও ডি ক্যালাব্রিয়া এবং সিসিলিতে হওয়া এই ভূমিকম্পে ৯৫ হাজার মানুষ মারা যায়।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *