নির্বাচন ছাড়াই প্রেসক্লাবে আ.লীগ-বিএনপির ভাগাভাগি

ঠিক যেন আরেকটি ৫ জানুয়ারি মার্কা ভাগাভাগির খেলা। সেই নির্বাচনে ছিল না বিএনপি। এবার বিএনপির বিদ্রোহীদের নিয়ে সরকার সমর্থকরা প্রেসক্লাবকে করলেন কলঙ্কিত।

ঠিক যেন আরেকটি ৫ জানুয়ারি মার্কা ভাগাভাগির খেলা। সেই নির্বাচনে ছিল না বিএনপি। এবার বিএনপির বিদ্রোহীদের নিয়ে সরকার সমর্থকরা প্রেসক্লাবকে করলেন কলঙ্কিত। ঠিক যেন আরেকটি ৫ জানুয়ারি মার্কা ভাগাভাগির খেলা। সেই নির্বাচনে ছিল না বিএনপি। এবার বিএনপির বিদ্রোহীদের নিয়ে সরকার সমর্থকরা প্রেসক্লাবকে করলেন কলঙ্কিত।

হঠাৎ সভা ডেকে নির্বাচন ছাড়াই জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০১৫-১৬ দুই বছর মেয়াদী কমিটির মোট সদস্য হলেন ১৭ জন।

নতুন কমিটিতে দেখা গেছে, সভাপতিসহ ১০টি পদে আসীন হয়েছেন সরকার সমর্থকরা। আর সাধারণ সম্পাদকসহ ৭টি পদ পেয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী বলে পরিচিত একাংশের সাংবাদিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিবার্ষিক সভা ডেকে প্রেসক্লাবের সদস্যদের একাংশ এ কমিটির ঘোষণা দেয়।

কমিটিতে সরকার সমর্থক শফিকুর রহমানকে সভাপতি করা হয়েছে। আর বিএনপি সমর্থক কামরুল ইসলাম চৌধুরীকে (বাসস) সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সমঝোতার ভিত্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

সরকার সমর্থক এবং বিএনপি সমর্থক সাংবাদিক নেতাদের একাংশের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘোষণা করেন এলাহী নেওয়াজ খান।

তবে প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপির সমর্থক সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও জামায়াত সমর্থক বলে পরিচিত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় নেই বলে জানা গেছে। তাদের কাউকে আজ সাধারণ সভায়ও দেখা যায়নি।

কমিটিতে অন্যান্যদের মধ্যে আছেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, যুগ্ম-সম্পাদক আশরাফ আলী, ইলিয়াস খান, কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জি।

এখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা হলেন- মনজুরুল আহসান বুলবুল, আশরাফ আলী ও কার্তিক চ্যাটার্জি। আর বিএনপি সমর্থিতরা হলেন- আমিরুল ইসলাম কাগজী ও ইলিয়াস খান।

১০ জনের সদস্য তালিকায় রয়েছেন- আমানুল্লাহ কবির, খন্দকার মনিরুল আলম, আজিজুল ইসলাম ভুইয়া, সাইফুল আলম, শ্যামল দত্ত, শামসুদ্দিন আহমেদ চারু, মোল্লা জালাল উদ্দিন, সরদার ফরিদ আহমেদ, হাসান আরেফিন, শামসুল হক দুররানীকে।

এদের মধ্যে আমানুল্লাহ কবির, খন্দকার মনিরুল আলম, সরদার ফরিদ আহমদ, শামসুল হক দূররানীকে বিএনপি সমর্থিত বলে ধরা হয়। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা হলেন— আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, মোল্লা জালাল, সাইফুল আলম, শ্যামল দত্ত, হাসান আরেফিন ও শামসুদ্দিন চারু।

শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিটি অবৈধ হয়ে গেছে। তাই সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি করা হয়েছে।

সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য আরো ৫০০ বাড়িয়ে ১,৫০০ করার সিদ্ধান্ত হয়।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ক্লাবের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এরপর তিনবার নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নির্বাচন হয়নি। সর্বশেষ ২৯ মে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এতে সরকার-সমর্থক ও বিরোধী দুই পক্ষের তরফ থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৭টি পদ ভাগাভাগি করে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের চেষ্টা চালানো হয়। তবে সে চেষ্টাও ভেস্তে যায়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ মে ছয় সদস্যের নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিত করে পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। ব্যবস্থাপনা কমিটি ২৫ ও ২৬ মে সভা করে ২৮ মে অনুষ্ঠেয় দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা স্থগিত ঘোষণা করে এবং ২৭ জুন অতিরিক্ত সাধারণ সভা ডাকে।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকার-সমর্থক ফোরাম, শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক ফোরাম ও আমানউল্লাহ কবিরের সভাপতিত্বে জাতীয়তাবাদী ধারার একটি ফোরাম আলাদা সভা করে।

সভায় কোনো কোনো অংশ দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের পক্ষেও মত দেয়। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটিও গতকাল জরুরি সভা করে সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজের সভাপতিত্বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *