এক লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক থাকছে না

এক লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক থাকছে না

এক লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক থাকছে নাব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

তার ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যাংকের আবগারিতে এক লাখ পযন্ত কোনো শুল্ক ধরা হয়নি। আগে বর্তমানে এক লাখ টাকার বেশি থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত ৫০০ টাকা দিতে হয়। এটি কমিয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। একইভাবে ৫-১০ লাখ টাকা পযন্ত ৮০০ টাকার পরিবর্তে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, ১০ লাখ থেকে ১ কোটি থাকা পর্যন্ত ২,৫০০ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১২,০০০ টাকা ও ৫ কোটির ওপর আমানত থাকলে ২৫,০০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে।

দু’বছরের জন্য স্থগিত হচ্ছে ভ্যাট আইন
বাজেটের উপর আলোচনার শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীকে বলেছেন, শতকরা পনেরো টাকা হারে ভ্যাট আদায়ের আইনটি বাস্তবায়ন আরো অন্তত দু’বছরের জন্য স্থগিত করতে এবং ব্যাংক আমানতের উপর আবগারী শুল্ক আরো অনেক কমিয়ে দিতে।

এই দুটি শুল্ক প্রস্তাব নিয়ে বাজেট ঘোষণার পরদিন থেকেই তোপের মুখে আছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এমনকি তিনি নিজ দলের সংসদ সদস্যদেরও বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েন।

যদিও বিশেষ করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে অনড় ছিলেন অর্থমন্ত্রী।

কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে টানা সমালোচনার প্রেক্ষাপটে আজ বাজেট আলোচনার সমাপনি দিনে শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীকে আরো অন্তত দু বছরের জন্য ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন থেকে পিছু হঠার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য দেয়ার সময়ে এ ব্যাপারে পিছু হঠার জন্য ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণটি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী এই পরামর্শ দেবার সময় সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

সংসদে অর্থবিল ২০১৭ পাস
বিদ্যমান কর ও শুল্ক হারের পরিবর্তনের বিধান করে আজ জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০১৭ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি গত ১ জুন উত্থাপন করা হয়।

বিলে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরের জন্য আর্থিক বিধান সম্বলিত কর ও শুল্ক প্রস্তাবের জন্য কতিপয় আইন ও বিধানের সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া বিলে উল্লেখিত বিধানসমূহ ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করারও বিধান করা হয়েছে। উত্থাপিত বিলের বিভিন্ন কর প্রস্তাবের ওপর কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

সরকারি দলের শহীদুজ্জামান সরকার, হুইপ মো. শাহাবুদ্দিন, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, মো. নুরুল ইসলাম ওমর, পীর ফজলুর রহমান, নূরুল ইসলাম মিলন, বেগম রওশন আরা মান্নান ও স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনীর প্রস্তাব আনেন।

এর মধ্যে হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন ও শহীদুজ্জামান সরকারের আনা সংশোধনীগুলো গ্রহণ করা হয়। বাকি সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *