গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়লে হরতালের ডাক দেবে ২০ দলীয় জোট।
জাতীয়

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে আন্দোলন কর্মসূচি

গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়লে হরতালের ডাক দেবে ২০ দলীয় জোট।গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়লে হরতালের ডাক দেবে ২০ দলীয় জোট।

শনিবার  বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আর এ বৈঠকেই হরতালের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এ লক্ষে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই হরতাল, অবরোধ, মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ও ঢাকা ঘেরাওয়ের মত ‘শর্টটার্ম’ আন্দোলন কর্মসূচি দিতে পারে তারা।সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি নিয়ে শিগগিরই ২০ দলীয় জোট রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে। বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে থেকে এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন। আগামী ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা জনসভার পর আবারো ২০ দলের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। শনিবারের বৈঠকেও জোট নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন। বিদ্যুতের দাম যাতে সরকার না বাড়াতে পারে সেজন্য জনমত তৈরির জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বিদ্যুতের দাম বাড়ালে ২০ দল হরতাল পালন করবে।

এদিকে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর একক হরতাল কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত পিকেটিং না থাকায় বেগম খালেদা জিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জোটের অধিকাংশ শীর্ষ নেতারই অভিমত ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া বর্তমান সরকারকে আরও বেশি সময় দিলে তারা জেঁকে বসবে। তাই শিগগিরই কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এ জন্য জনগণের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ইস্যু হিসেবে নিয়ে আন্দোলনের মাঠে নামতে হবে। এতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

সূত্র মতে, বৈঠকে অধিকাংশ নেতাই তাদের বক্তব্যে আগামী বিজয় দিবসকে জোটগতভাবে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পালনের পক্ষে মত দেন। তাদের মতের সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করে জোট নেতা খালেদা জিয়াও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করে। তারা মনে করে তারাই মুক্তিযুদ্ধে ‘সোল এজেন্ট’। অথচ বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোটের মধ্যেই বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার অবস্থান। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার গড়া রাজনৈতিক দল। সেজন্য বিজয় দিবসকে ঘিরে বিএনপি ও জোটকে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাঁকজমকভাবে এ অনুষ্ঠান পালন করা হবে।

বৈঠকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রিদওয়ান উল্লাহ শাহেদী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রধান শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (জাফর) টিআইএম ফজলে রাব্বি ও মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মো. ইব্রাহিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিএল) মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লিগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, সাম্যবাদী দলের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ অংশ নেন। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *