প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনের নামে চলছে নাশকতা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা যা করার তাই করবো। কেউ আমাদেরকে তা থেকে ফেরাতে পারবে না।
জাতীয়

‘আন্দোলনের নামে চলছে নাশকতা’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনের নামে চলছে নাশকতা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা যা করার তাই করবো। কেউ আমাদেরকে তা থেকে ফেরাতে পারবে না।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনের নামে চলছে নাশকতা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা যা করার তাই করবো। কেউ আমাদেরকে তা থেকে ফেরাতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি বলেন- আমরা নাকি উনাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি। উনি ঘর রেখে অফিসে কেন? অবশ্য ঘর থেকে পালানো উনার পুরনো অভ্যাস।’

‘উনি বাড়ি চলে যাক কেউ বাধা দেবে না। উনাকে কেউ অবরুদ্ধ করেনি। উনি যাবেন না, কারণ সেখানে উনি তো ভালোই আছেন। ভালো ভালো খাবার যাচ্ছে, সেগুলো খাচ্ছেন’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ে উনি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করবেন আর আমরা বসে বসে সহ্য করবো এটা কখনো হবে না। উনাকে বলবো- এসব ছেড়ে দেন। জনগণ ক্ষেপে গেলে পরিণতি কিন্তু ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। আমরা যাদের পরাজিত করেছি, তারা এখনো সেই পরাজিত শক্তির পদলেহন করছে। অবশ্য এটা করারও কারণ আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে আসবেন না। কারণ যুদ্ধপরাধী দল হিসেবে জামায়াত নিবন্ধিত হতে পারেনি, যে কারণে নির্বাচন করতে পারবেন না। জামায়াত না আসলে তিনিও নির্বাচনে আসবেন না।’

তিনি দাবি করেন, ভরাডুবি জেনে বিএনপি নেত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আসেননি। এরপর নির্বাচন বানচালের নামে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। তাদের হাত থেকে অবলা গরু পর্যন্ত রক্ষা পায়নি।

এ সময় সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভোট দেয়া তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে ছিলাম। এক বছর সফলভাবে সরকার পরিচালনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী ওই নির্বাচন ঠেকাতে পারেননি। ৫ জানুয়ারিতে ফের উনার মাথায় ভূত চেপেছে। এখন আবার আন্দোলন শুরু করেছেন। কিসের আন্দোলন? কে মানে তার অবরোধ?

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখন আর কোনো রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি জঙ্গী এবং সন্ত্রাসের নেত্রী। কী অন্যায় করেছে সাধারণ মানুষ, অবরোধের নামে তাদের চলাফেরায় বাধা দেবেন?’

তিনি দাবি করেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, অবৈধ নয়। এতে ৪০ ভাগ মানুষ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভোট দিয়েছে। নির্বাচন বৈধ না হলে বাংলাদেশ সিপিএ এবং আইপিইউ’র শীর্ষ পদে জয়ী হতো না।’

‘এটি সবাই বোঝে, কেবল বোঝেন না উনি আর উনার এক কুলাঙ্গার পুত্র। উনার পুত্র রাজনীতি করবে না এমন মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছে। দেশে থাকতে দেশটাকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছিল’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করেননি এটা আপনার সিদ্ধান্ত। কোনো রাজনৈতিক নেতা ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তাকে এবং তার দলকে খেসারত দিতে হয়। আপনার ভুলের জন্য জনগণ কেন খেসারত দেবে?’

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ে উনি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করবেন আর আমরা বসে বসে সহ্য করবো এটা কখনো হবে না। উনাকে বলবো- এসব ছেড়ে দেন। জনগণ ক্ষেপে গেলে পরিণতি কিন্তু ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা রক্ষায় যা যা করণীয় তা করবো। এতে কেউ বাধা দিতে পারবে না। সহ্যেরও একটা সীমা আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ইজতেমার মধ্যেও বিএনপি নেত্রী অবরোধ দিলেন। উনি তো বাধা দিতে পারলেন না। সেখানে লাখ লাখ লোক জমায়েত হয়েছেন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেছে। রায়ও কার্যকর শুরু হয়েছে। এ বিচার কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বক্তব্য রাখেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *