আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

আগামীকাল রোববার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতে দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আগামীকাল রোববার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতে  দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।আগামীকাল রোববার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে খালেদার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আদালতে যাওয়ার দিন সরকারের পক্ষ থেকে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দেয়া হয় তাহলে তিনি (খালেদা) আদালতে হাজিরা দেবেন।’

তিনি বলেছিলেন, ‘আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় খালেদার ওপর আবারো হামলা করতে পারে দুর্বৃত্তরা এমন আশঙ্কায় আছি আমরা। যদি সরকার আদালতে যাওয়ার সময় বেগম খালেদা জিয়াকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয় তাহলে তিনি আদালতে যাবেন। আদালতের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার সব সময়ই শ্রদ্ধা আছে।’

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। মামলাটির চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর অসংখ্যবার মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়ে ইতিমধ্যে ছয় বছর পার হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে দুদক খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এরপর অনেকবার মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। গত ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণও পিছিয়েছে কয়েক দফা। কয়েক মাস ধরে আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

খালেদার হাজিরা আদালতে দেয়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পেলে ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন। সরকারের উচিত হবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।

নৌমন্ত্রীর কর্মসূচিতে বিএনপির উদ্বেগ

রোববার  আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই দিন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ‘অবরোধ-হরতালে মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রাজপথে অবস্থান’ কর্মসূচি ডাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

শাজাহান খানের এই কর্মসূচিকে ঘিরে খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া ও ফেরার পথে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে দলটি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবাহ জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে উপস্থিত হবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাজাহান খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন পর্যন্ত গণপদযাত্রা পালন করবেন তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফার্মগেট হয়ে বকশীবাজার আদালতে হাজিরা দিয়ে থাকেন। এই রোড দিয়েই শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদের নেতাকর্মীরা পদযাত্রা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন ১০টায়। ফিরবেন ১২টায়। আমাদের কর্মসূচি ৩টায়। তাই তাদের এই আশঙ্কা অমূলক ছাড়া আর কিছু নয়।’

‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। মুক্তিযোদ্ধা-শ্রমিক-কর্মচারীরা শান্তির দাবিতে ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পদযাত্রা করবে। তাই এই আন্দোলনের সহিংসতার কোনো প্রশ্নই আসে না,’ মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ৩৯ দিন পর তিনি আদালতে হাজির হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *