আত্মসাতের কেলেঙ্কারি নাকি বৈধ কারবার
জাতীয়

আত্মসাতের কেলেঙ্কারি নাকি বৈধ কারবার

আত্মসাতের কেলেঙ্কারি নাকি বৈধ কারবারকাজী এম এ আনোয়ার

কেলেঙ্কারিতে বর্তমান সরকার বিশ্ব জয় করে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক বিস্ময়কর সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এই সব ঘটনার পটীয়ানরা সব বড় বড় রাজনৈতিক বোদ্ধা।

কেলেঙ্কারির ঘটনা সরকারের প্রতিটি স্তরে সমান তালে ঘটে যাচ্ছে। অপরাধ, অন্যায়াচরণ কিংবা ভ্রষ্টাচরণের ঘটনা ঘটানোর জন্য বোধ হয় সরকার অন্তরালে একটি মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেছে। যার জন্য হয়ত এত নৈপুণ্য ও ধূর্ততার সাথে একটার পর আরেকটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

পদ্মাসেতু দুর্নীতিতে তো জাতীয়ভাবে প্রত্যায়িত ব্যক্তিবর্গ অর্থ আত্মসাতের প্রতিযোগিতায় অলিম্পিকের গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। রেলের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কালো বিড়াল খ্যাত তৎকালীন রেলমন্ত্রী কোন অনুতাপ পর্যন্ত করলেন না।

গত সাত বছরে ঘটে যাওয়া ছয়টি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি চুরি হয়েছে (দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী)। এই সকল সার্টিফাইড বিশেষ সৎ (তস্কর) লোকগুলো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেশ আরামেই আছেন আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ যারা রাতদিন পরিশ্রম করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হয়েছে। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় রহস্যজনক কারণে বরাবরই নিরব থেকেছে। আমরা কি জানতে পেরেছি এই সকল মহান অদৃশ্য আত্মসাৎকারী কারা? রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান, এমডি বা অন্যান্য সদস্যদের একটি সুবৃহৎ অংশ এই সব ঘটনার মূল হোতা। এরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র।

সম্প্রতি পদত্যাগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের ‘শ্রেষ্ঠত্ব ও সততার’ গল্প আজও আমাদের কানে অনুরণন হয়। এই গল্প বাস্তব নাকি বানানো তা এখন দিবালোকের মত সত্য। তাঁর নৈতিক অধঃপতন আজ গোটা বাঙ্গালী জাতীর বিশ্বাসে যে প্রস্ফুরণ হয়েছে তা আর স্তব্ধ হবার নয়। তাঁর সততার প্রতীকী অভিব্যক্তি দুর্নীতির লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত। তৈলমর্দনে পারদর্শী এই লোকটা এতদিন আমাদের অনেকের কাছে ছিল একটা জীবন্ত সাফল্যের প্রতীক। তিনি মূলত রাখালের ছদ্মবেশে লুণ্ঠক গোপাল দূর্নীতির জীবাণু বহনকারী প্রতিপোষক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংকিং খাতে যত ধরনের বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে তার প্রায় সব ক’টি জনাব আতিউর গভর্নর থাকার সময়ে ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আতিউরের যে ‘শ্রেষ্ঠ ও সৎ’ ইমেজের প্রচারণা করা হত তা দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রচারণার মহান উদ্দেশ্য হল, আত্মসাৎকারীদের আড়ালে থাকার ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮শ কোটি ডলার চুরির ঘটনায় প্রথমই আমাদের অনেকের চোখ খুলল। তাঁর পদত্যাগের নটক আমাদের অনেকেই হয়ত প্রভাবিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী আবেগে কেঁদে দিয়ে বলেছিলেন, আতিউর রহমানের পদত্যাগ নৈতিক মনোবল ও সৎ সাহসের বিরল দৃষ্টান্ত! কি চমৎকারই না বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

জনাব আতিউর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বড় আকারের কেলেংকারিগুলোকে তুলে ধরা হল-
(১) আতিউর সাহেবের উপস্থিতিতেই শেয়ারবাজার থেকে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা লুট হল। বার বার ব্যাংকিং পলিসি পরিবর্তন ও প্রবর্তন করে ব্যাংকের শেয়ারকে ৮ থেকে ১০ গুন বাড়িয়ে অর্থ লুট করে নেওয়া হয়। এই গভর্ণর-এর নেতৃত্বে ব্যাংকিং সেক্টরের শেয়ার দ্বারা অন্যান্য সেক্টরের শেয়ারকেও অন্যায় ভাবে ম্যানপোলেট করে পুরো শেয়ারবাজারটাই লুট করে নেওয়া হয়।

(২) ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক অর্থ কেলেংকারিতে ৪ হাজার কোটি টাকা লুট।সেক্ষেত্রেও জনাব আতিউর নিজেকে সুনিপূণ ভাবেই আড়ালে রেখেছেন।

(৩) ২০১৩ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপ কর্তৃক দেশের পাঁচটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১১শ কোটি টাকা লুট। উনি তখনও নিরব ছিলেন।

(৪) ২০১৩ সালে বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট। আতিউর রহমানের কোন ভূমিকা লক্ষ্যনীয় ছিল না।

(৫) ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১০০ মিলিয়ন চুরি হয়। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে জনাব আতিউর ভাবলেসহীন হাবে ইন্ডিয়ায় সফর করে বেড়িয়েছেন।

(৬) গত কয়েক বছরে সোনালী ব্যাংক, আল আরাফাহ ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের বহু শাখায় কর্মকর্তাদের সহায়তায় অসংখ্য ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর কোনটির সঠিক ভাবে তদন্ত হয়নি আর বিচার করা তো দূরের কথা।

২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে লোকসান ৪ হাজার ১৫১ কোটি টাকা আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নীট লোকসান ২ হাজার ৬২২ কোটি টাকা গুনলেও জনাব আতিউর মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে গেছেন।

১৩ মার্চ ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, যে বড় বড় অর্থনৈতিক কেলেংকারিগুলোর সময় তিনি খুবই তুচ্ছ ঘটনায় বিদেশে বিলাস ভ্রমণে ছিলেন। শুধু গত ১৪ মাসে ১৪ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি। এর মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারি ভারতে চারবার; যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডে দুইবার এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, পেরু, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও জাপানে একবার করে সফরে যান যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের কাজ করে বেড়িয়েছেন। সর্বশেষ হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশের পরপরই আইএমএফের প্রোগ্রামে যোগ দেয়ার নাম করে নিজের ‘তব ভুবনে তব ভাবনে: রবীন্দ্রনাথের অর্থনীতি ভাবনা’ শীর্ষক বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁর এই ভ্রমণ বিলাসিতার জন্য সরকারের কত টাকা ব্যয় হয়েছে সেটার জবাব দিবে কে?

প্রতিটি চুরির ঘটনা ক্ষণপরেই আর একটা স্পর্শকাতর ঘটনার জন্মের মাধ্যমে কেমন সুচারুরূপে আগের ঘটনাটি আড়াল করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের টাকা চুরি হয়েছে তারা কি কখনো ভুলতে পারবে?

এসব ক্ষেত্রে দুদক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে ছাড় দিয়ে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে চুপ হয়ে বসে আছে। একটি কেলেঙ্কারিরও বিচার সঠিকভাবে হয়নি। অভিযুক্তদের কে কোথায় আছেন, আমরা জানি না বা আমাদের জানানো হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে মূলত সুশাসন ব্যবস্থা না থাকায় একের পর আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। অনেক গুলো কেলেঙ্কারির মধ্যে হল-মার্ক, বেসিক ব্যাংক বা বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এর প্রতিটি ঘটনার সাথে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ জড়িত আছেন। ফলে দুদক বা সরকার কোন ব্যবস্থা নিতে পারে নি বা ব্যবস্থা নিতে চায় নি। শুধুই কি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে?

বিএনপির আমলেও কম কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি সরকারের আমলে চট্টগ্রামের অখ্যাত ব্যবসায়ী কে এম নুরন্নবী পাঁচটি ব্যাংক থেকে ৬৯৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হজম করেছিলেন। ২০০৫ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক কেলেঙ্কারি ছিল বিএনপি সরকারের আমলে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। এ ঘটনায় ওরিয়ন গ্রুপ বেনামে ৫৯৬ কোটি টাকা তুলে নিয়ে ব্যাংকটি বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম করে। একই ভাবে আওয়ামিলীগের আমলে হল-মার্ক কেলেঙ্কারি-ই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারি। এই ঘটনায় ওই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ও রাজনৈতিক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদের কয়েকজন সদস্য,যেমন আওয়ামী লীগ নেতা সাইমুম সরওয়ার জড়িত ছিলেন। এই মহা কেলেঙ্কারিকে প্রত্যয়িত করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ‘তিন বা চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি বড় কিছু নয়।’ কতটা প্রভাবিত হলে একজন দায়ীত্বশীল মন্ত্রী এমন নীচ মানের কথা বলতে পারে?

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ আমলে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে শেয়ারবাজারে। সেই কেলেঙ্কারির কোন বিচার এখনো হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে কেলেঙ্কারি যেন পিছু ছাড়ছে না। ২০০৯ সালে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ঘটল এবং খোয়া গেল অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারি ঘটল ২০১২ সালের এবং খোয়া গেল অন্তত সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারিতে অর্থ আত্মসাৎ করা হল ১১০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে খোয়া গিয়াছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া সর্বশেষ ডেসটিনির কেলেঙ্কারিতে আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়াল ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংক থেকে বেনিটেক্স লিমিটেড, মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলস নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গেছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। এ ব্যপারে তেমন মাতামাতি হয়নি। অগ্রণী ব্যাংক থেকে বহুতল ভবন নির্মাণের মিথ্যা অজুহাতে ৩শ কোটি টাকা লুট করে মুন গ্রুপ। মুন গ্রুপের বিচার হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট না। সবশেষ লাইসেন্স পাওয়া ফারমার্স ব্যাংকও প্রায় ৪শ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের নাম করে আত্মসাৎ করেছে। এর প্রতিটি ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

আজ পর্যন্তু এসব ঘটনায় চুড়ান্তভাবে কেউই অভিযুক্ত হয়নি বা অভিযুক্তদের কারও সাজা হয়নি এবং হবেও না। হল-মার্কের এমডি, তানভীর মাহমুদ, জেলে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম জামিনে আছেন এবং বহাল তবিয়তে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নামে তো কোন মামলা পর্যন্ত নেই। ডেসটিনির সভাপতি রফিকুল আমীন আটক হলেও অসুস্থতার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। আর সারা দেশের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা হাহুতাশ করে বেড়াচ্ছে।

এই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকা রিজার্ভ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ জড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কারণেই এর গুরুত্ব ঢের। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দুই জন ডেপুটি গভর্নরের পদত্যাগের মহা নাটকের মাধ্যে দিয়ে এই ঘটনার ক্লাইমেক্স ঘটানো হয়।

এসব ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্টত অবহেলার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশ্রয়ে প্রায় চার বছরেরও অধিক সময় অব্যাহতভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদের কর্মকর্তারা। ক্ষমতা থাকা সত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

আতিউর রহমানের মত বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান, অপ্রতুল জামানতের বিপরীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ দিয়ে হরিলুট করে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। এই ভাবে সরকারের সাথে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সবসময়ই পর্দার আড়ালে রয়েগেছেন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিচারহীনতার সংস্কৃতি পালিত হচ্ছে। ফলে দুর্নীতিবাজরা সদা সুরক্ষিত আর সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ও প্রবাসীরা সদা এই কেলেঙ্কারির দায় বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে এই অপরাধীদের বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি থাকিলেও পৃথিবীর উন্নত দেশে এর নজিরবিহীন শাস্তি দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাসদাকের সাবেক চেয়ারম্যান বার্নার্ড মেডফের শেয়ারবাজারে আর্থিক কেলেঙ্কারির জন্য ২০০৯ সালের জুন মাসে বিচারে ৭১ বয়সী এ ব্যবসায়ীকে ১৫০ বছরের কারাদন্ড ও ১৭০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়।

জনগণের অর্থ লুটপাট করে মদিনার সনদে দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলে সরকারি বার্তা দিয়ে আমাদের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। এই শঠতা দিয়ে সরকারের স্থায়িত্ব কতটুকু করা যাবে তা আল্লাহই মালুম।

পরিশেষে সরকারকে বলব, ক্ষমতায় কে বা কোন দল আছে, আর কোন দল থাকবে এটা জনগণের দেখার বিষয় নয়। বর্তমান সরকার পারলে সহস্র বছর ক্ষমতায় টিকে থাকুক তাতে সাধারণ জনগণের কোন আপত্তি নেই। কেবল আপত্তি থাকবে, শুধু আপত্তি বললে ভুল হবে, তীব্র আপত্তি থাকবে যদি বাংলাদেশের আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদেরকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে শাস্তির ব্যবস্থা না করা হয়।

লেখকঃ প্রাক্তন প্রভাষক, রিগাল কলেজ, লন্ডন; আইন উপদেষ্টা এসইবি সলিসিটর, লন্ডন

শিরোনাম ডট কম পোর্টালে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, যা আমাদের সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নাও হতে পারে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *