‘আওয়ামী লীগই গুমের রাজনীতি শুরু করেছে’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “আপনাদের সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছু দেয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। তবে এইটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি, একদিন না একদিন এই গুমের বিচার হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “আপনাদের সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছু দেয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। তবে এইটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি, একদিন না একদিন এই গুমের বিচার হবে।বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে আগে গুমের ঘটনা ছিল না; ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই গুমের রাজনীতি শুরু করেছে। এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজ কার্যালয়ে খালেদা জিয়া গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সহমর্মিতা জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন। এ সময় দেশে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ বিএনপি নেতাকর্মীর স্বজনরা তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “আপনাদের সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছু দেয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। তবে এইটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি, একদিন না একদিন এই গুমের বিচার হবে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এবং গুম হওয়া পরিবারের ছেলে-মেয়েরা জানতে পারবেন, তাদের প্রিয়জনকে গুম করে কোথায়, কীভাবে নিয়ে রাখা হয়েছিল।”

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আগে গুম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই গুমের রাজনীতি শুরু করেছে। যারা দেশের নেতৃত্ব দেবে সরকার বেছে বেছে সেসব ছেলেদের গুম করেছে।

তিনি বলেন, পত্রিকা খুললেই দেখা যায় খুন, গুম আর নারী নির্যাতন। এগে এত খুন, গুম আর নারী নির্যাতন ছিল না। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বাংলাদেশে এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম চলছে। এই গুমের তদন্ত সরকারকে দিয়ে সম্ভব নয়। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিকভাবে এর তদন্ত করতে হবে। দেশে যেসব নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা আছে তাদের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে গুমের তদন্ত করতে হবে। শুধু দিবস পালন করলেই হবে না।

বাংলাদেশে কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরাও যে গুম হব না এর নিশ্চয়তা নেই। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যারা গুম হয়েছে, তাদের গুমের সঙ্গে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হবে।”

বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা লুনাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুমের শিকার ৩০ নেতাকর্মীর স্বজনরা।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *