শান্তিতে নোবেল পেল ‘আইক্যান’

শান্তিতে নোবেল পেল ‘আইক্যান’

20
0
SHARE

শান্তিতে নোবেল পেল ‘আইক্যান’বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইক্যান)।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বেরিত রেইস অ্যান্ডারসন এ পুরস্কারের জন্য আইক্যানের নাম ঘোষণা করেন।

নাম ঘোষণা অনুষ্ঠানে কমিটির নেতা অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করছি, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি।’ তাই পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির জন্য জনমত সৃষ্টি করায় আইক্যান এ পুরস্কার অর্জন করেছে।

আইক্যানের পুরস্কার প্রাপ্তির খবর সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বিট্রিস ফিনকে ফোন করে জানায় নোবেল কমিটি। স্বপ্নের মতো এ খবর শুনে কেমন লেগেছিল জানতে চাইলে ফিন বলেন, ‘খবরটি শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। সত্যিই নোবেল পেয়েছি, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য ১৯৪৫ সাল থেকে যারা অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সবার জন্য এটি খুশির খবর। আর পরমাণু পরীক্ষার ভুক্তভোগীদের জন্য এটি বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি।’

আইক্যানের নির্বাহী পরিচালক বেটরিস কেইন বলেন, আইক্যানের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলোর কাছে একটি ম্যাসেজ দেয়া যে, তারা যে পরমাণু অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে তা অগ্রহণযোগ্য আচরণ। আমরা নিরাপত্তার নামে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার মতো কোনো অস্ত্রকে মেনে নিতে পারি না। যা নিরাপত্তার নামে অন্যদের হত্যা করে তা কোনো দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে নোবেল কমিটির নেতা বলেন, এটা খুবই বিপদজনক যে, অনেক দেশ তাদের পরমাণু অস্ত্র উন্নত করছে আবার অনেকে নতুন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। এসব কার্যক্রম পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের জন্য হুমকি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিপূর্বে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে সে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এই যায়গাটিতে যে দুর্বলতা ছিল সেটি পূরণে আইক্যান কাজ করছে।

১০ বছর আগে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আইক্যান’। এর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অলাভজনক সংস্থা হিসেবে ‘আইক্যান’ বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে প্রচারণা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

কার হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৭ উঠছে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বেশ আগ্রহ ছিল এবার। এ বছর ৩শ ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য তালিকা থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে আইক্যানের নাম ঘোষণা করা হল।

গত জুলাইয়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ ও পর্যায়ক্রমে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রণীত জাতিসংঘের একটি চুক্তি ১২২টি দেশ গ্রহণ করে। পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী নয়টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। চুক্তিটি অবশ্য তার দেশে গণভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে নোবেল শান্তি কমিটি মনে করে- শান্তি স্থাপনের জন্য তার ঐতিহাসিক উদ্যোগ বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

এ নিয়ে ২৬তম বারের মতো কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান শান্তিতে নোবেল জিতল। চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ড সংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। মোট ৩১৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ছিল ২১৫ জন ব্যক্তি এবং ১০৩টি সংগঠনের নাম। এর আগে ২০১৬ সালে ৩৭৬ জন প্রতিযোগীকে শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ১৯০১ সাল থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছরেরটি নিয়ে এ পর্যন্ত শান্তিতে ৯৭টি নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। নোবেল পুরস্কারের চারটি ক্যাটাগরির বিজয়ী সুইডিশ নোবেল কমিটি ঘোষণা করলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা নরওয়ে কমিটি দিয়ে থাকে।

Comments

comments