অ্যাজমার মোকাবিলা করা অনেক সহজ

অ্যাজমার মোকাবিলা করা অনেক সহজ

546
0
SHARE

অ্যাজমার মোকাবিলা করা অনেক সহজহাঁপানির জন্য পরিবেশ দূষণ, প্যাসিভ স্মোকিং পরোক্ষভাবে দায়ী৷ বছর কয়েক আগেও এর গদবাঁধা চিকিৎসা ছিল৷ কিন্তু বর্তমানে অনেক নতুন ধরনের ওষুধ আসায় অ্যাজমার মোকাবিলা করা অনেক সহজ৷

অ্যাজমা
অ্যাজমা বা হাঁপানি হল মূলত শ্বাসনালির অসুখ৷ মানবদেহের শ্বাসনালির মোট তিনটি অংশ– ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল এবং টার্মিনাল ব্রঙ্কিওল৷ বিভিন্ন প্রকার উত্তেজনায় উদ্দীপিত হয়ে শ্বাসনালি অতি মাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং এর মধ্যে সর্দি জমে তা ব্লক হয়ে যায়৷ তখন নিশ্বাসের সমস্যা দেখা যায়, যা চিকিৎসার পরিভাষায় অ্যাজমা নামে পরিচিত৷

কারণ
এর পিছনে মূলত দু’প্রকার কারণ থাকে–

অ্যালার্জিক ট্রিগার
ধুলো, পশু-পাখির লোম, তুলো, নির্দিষ্ট খাবার, আরশোলা, পরাগ রেণু প্রভৃতি যখন কারণ৷

নন অ্যালার্জিক ট্রিগার
ঠান্ডা লাগা, প্যাসিভ স্মোকিং (পরোক্ষ ধূমপান), ঋতু পরিবর্তন, দুশ্চিন্তা, সংক্রমণ৷

উপসর্গ
• ঘুসঘুসে কাশি (রাতে বেশি করে)

• শ্বাসকষ্ট

• গলায় চুলকানি

• নাক দিয়ে জল পড়া

• চোখ চুলকানো

• ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা৷ (বিশেষ করে বর্ষা ও শীতকালে)

বড়দের ক্ষেত্রে
• পা ফোলা

• হলুদ বা সবুজ সর্দি

• অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া

• সারা বছর একনাগাড়ে ঠান্ডা লেগে থাকা

শনাক্ত করতে টেস্ট
চেস্ট এক্স-রে, অ্যালার্জি টেস্ট, পালমোনারি ফাংশন টেস্ট, প্রয়োজনে স্পুটাম বা থুথু পরীক্ষা৷

চিকিৎসা
• অ্যাজমার আদর্শ চিকিৎসা হল স্টেরয়েড।

• শ্বাসনালির প্রদাহ বন্ধ করার জন্য মূলত অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটিভ মেডিসিন নেওয়া হয়৷

• সাধারণত অ্যাজমা রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা কাফ সিরাপ দেওয়া হয় না, কারণ এতে সর্দি বুকে জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ এছাড়া নিউমোনিয়াও হতে পারে৷ তাই ইনহেলার দিয়েই মূলত এর চিকিৎসা করা হয়৷

ইনহেলারের রকমফের

প্রিভেনটর ইনহেলার
শ্বাসনালির প্রদাহ এবং অ্যাজমা অ্যাটাক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এই প্রকার ইনহেলার ব্যবহার করা হয়৷

রিলিভার ইনহেলার
অ্যাজমার যখন তীব্র অ্যাটাক আসে তখন এই প্রকার ইনহেলার দেওয়া হয়৷ প্রিভেনটর ইনহেলার যদি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা হয় তাহলে রিলিভার ইনহেলারের সাধারণত প্রয়োজন পড়ে না৷

ইনহেলার আদর্শ যে কারণে
ইনহেলারে যে স্টেরয়েড ওষুধ থাকে তা সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছয়৷ ফলে দেহের অন্যান্য অংশে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না৷ অথচ ওরাল মেডিসিন রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়ায় যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইনহেলারের তুলনায় অনেক বেশি৷ এক্ষেত্রে যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি দেখা যায়–

• বুক ধড়ফড় করা

• উচ্চ রক্তচাপ

• হাত-পা কাঁপা

• হাইপার অ্যাকটিভিটি

• হার্ট রেট বৃদ্ধি পাওয়া

চিকিৎসার অগ্রগতি
আগে অ্যাজমার চিকিৎসায় LABA, ICS এবং LAMA জাতীয় স্টেরয়েড ও ব্রঙ্কোডায়লেটর ব্যবহার করা হত৷ কিন্তু এখন Montelukast, Roflumilast এবং Seratrodast জাতীয় ওষুধ চলে আসায় চিকিৎসার মান অনেক উন্নত হয়েছে৷

সতর্কতা
• বংশে অ্যাজমার ইতিহাস থাকলে ধূমপান একেবারে বন্ধ করতে হবে।

• বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।

• অ্যালার্জিক ও নন-অ্যালার্জিক ট্রিগারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে।

• নিয়মিত শরীরচর্চা করা দরকার।

• ইনহেলার নেওয়ার সঠিক নিয়ম চিকিৎসকের কাছে জেনে নেওয়া।

• ইনহেলার নেওয়ার পর মুখ ভাল করে কুলকুচি করা।

• কোনও প্রকার শ্বাসকষ্ট হলে তা ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা৷

Comments

comments