অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন মানেই একপেশে ফাইনাল

একাদশ বিশ্বকাপ ফাইনালটা অবশ্য একপেশেই হয়ে গেছে বলা চলে। আর একপেশে বিশ্বকাপ ফাইনাল বেশি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার উপস্থিতিতেই।

একাদশ বিশ্বকাপ ফাইনালটা অবশ্য একপেশেই হয়ে গেছে বলা চলে। আর একপেশে বিশ্বকাপ ফাইনাল বেশি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার উপস্থিতিতেই।বিশ্বকাপ ফাইনাল সবসময় কল্পনার মতো বাস্তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। অনেক সময় দেখা গেছে একতরফা ফাইনাল। আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইও হয়েছে।

একাদশ বিশ্বকাপ ফাইনালটা অবশ্য একপেশেই হয়ে গেছে বলা চলে। আর একপেশে বিশ্বকাপ ফাইনাল বেশি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার উপস্থিতিতেই। পাঁচবারের মধ্যে চারবারই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে হলুদ জার্সিরা। ১৯৮৭ সালের পর ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫ সালেও সোনালী গারুয়া ট্রফিটা মাইকেল ক্লার্কের দল নিজ দেশে রেখে দিল প্রতিবেশি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে। নিউজিল্যান্ডকে মেলবোর্নে রোববার ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। একপেশে ফাইনালের আরেকটি নিদর্শন হয়েই থাকলো একাদশ ফাইনাল।

১১ বিশ্বকাপে সাতবারই ফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে জিতেছে পাঁচবার। বেশির ভাগ ফাইনাল জিতেছে দাপটের সঙ্গে, প্রতিপক্ষকে স্রেফ গুঁড়িয়ে দিয়ে। ১৯৮৭ বিশ্বকাপ ফাইনালটাই জিততে যা একটু কষ্ট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেবার ইংল্যান্ডকে মাত্র ৭ রানে হারিয়েছিল তারা।

সারা বিশ্বে বলার মতো আলোড়ন তোলার আগেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দুটি আসর জিতে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭ রানে হারিয়েছিল উইন্ডিজরা। তাদের ৮ উইকেটে ২৯১ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২৭৪ রানে অলআউট হয়। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ফাইনালটা একপেশেই ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯২ রানে জিতেছিল। ক্যারিবিয়ানদের ৯ উইকেটে ২৮৬ রানের জবাবে ইংল্যান্ড ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।

১৯৮৩ সালে লর্ডসে তৃতীয় ফাইনালটা ছিল লো স্কোরিং। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৩ রানে হারিয়েছিল কপিল দেবের ভারত। ১৯৮৭ সালে উপমহাদেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ স্বাদ পায় অস্ট্রেলিয়া। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের ৫ উইকেটে ২৫৩ রানের জবাবে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৪৬ রান করে। ১৯৯২ সালে মেলবোর্নে পাকিস্তান প্রথম বিশ্বকাপ জিতে। ইংল্যান্ডকে ২২ রানে হারায় ইমরান খানের দল। পাকিস্তানের ৬ উইকেটে ২৪৯ রানের বিপরীতে ইংল্যান্ড ২২৭ রানে অলআউট হয়।

১৯৯৬ সালে লাহোরে উপমহাদেশের তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে হারায় অর্জুনা রানাতুঙ্গার দল। এরপর টানা তিনটি ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে উপমহাদেশের তিন দলকে। সবকটি ম্যাচই ছিল একতরফা। ১৯৯৯ সালে লর্ডসে পাকিস্তান অলআউট হয় ১৩২ রানে। ৮ উইকেটে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ সালে ভারতকে ১২৫ রানে পরাজিত করে রিকি পন্টিংয়ের দল। ২০০৭ সালে বার্বাডোজে শ্রীলঙ্কাকে ৫৩ রানে হারিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতে অস্ট্রেলিয়া।

২০১১ সালে মুম্বাইয়ে দশম ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ২৭৪ রান করলেও ম্যাচটি জমেনি। ভারত ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় দ্বিতীয়বার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *