শান্তিপূর্ণ অবরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
জাতীয়

অবরোধ অব্যাহত রাখতে খালেদা জিয়ার আহবান

শান্তিপূর্ণ অবরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি না মানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমানের স্বাক্ষরে পাঠানো দলের স্থায়ী কমিটির এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।স্থায়ী কমিটি বলেছে, ‘জনপ্রতিনিধিত্বহীন’ সরকারকে এক বছর সময় দেয়া হলেও তারা বিরোধী দলকে শুধু উপহাস আর হয়রানি-নির্যাকতন করেছে। সভা-সমাবেশের মতো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে কথা বললে গ্রেফতার করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। ভয় দেখিয়ে হরণ করেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দেশ-বিদেশের আহ্বানকে তারা উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারির আগের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। জনগণকে আবার ভোটাধিকারবঞ্ছিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সরকার।তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নামতে হয়েছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, “গণতন্ত্রের আন্দোলনে যারা শহীদ হচ্ছেন, তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যারা আহত ও নির্যাতিত হচ্ছেন তাদের প্রতি আমাদের অফুরন্ত সহানুভূতি। দেশে গণতন্ত্র ফিরলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসিত করব ইনশাআল্লাহ।”

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, “শান্তিপূর্ণ  অবরোধ কর্মসূচি ব্যর্থ করতে ক্ষমতাসীনরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সন্ত্রাস, নাশকতা, অন্তর্ঘাত সৃষ্টির পাশাপাশি অপপ্রচার জোরদার করেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বোমা নিক্ষেপ এবং ১২ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশের পাশে ককটেল নিক্ষেপকালে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বোমাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হলেও তাদের সরকারি নির্দেশে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  এতে পরিষ্কার হয়ে গেছে, ক্ষমতাসীনরাই সন্ত্রাস, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত চালিয়ে তার দায় আন্দোলনরত বিরোধী দলের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

সরকার ভয় দেখিয়ে ও সেন্সরশিপের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়,  “ফলে দেশের প্রকৃত চিত্র এবং জনগণের আন্দোলনের সঠিক খবর প্রচার করতে সংবাদমাধ্যম ব্যর্থ হচ্ছে।  আমাদের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিবরণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক শো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেউ ক্ষমতাসীনদের অপকর্ম তুলে ধরলে বা অপপ্রচারের জবাব দিলে তাকে সাজানো মামলায় আটক করা হচ্ছে।” অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের আনুকূল্যপুষ্ট কিছু প্রচারমাধ্যম বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, “মানুষের কষ্ট, দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ সহানুভূতিশীল ও সজাগ। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা যেভাবে রক্ত ঝরিয়েছে, গুম করেছে, জাতীয় অর্থনীতির বিনাশ করেছে, সব প্রথা-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, লুণ্ঠন করেছে তার অবসানকল্পে ধৈর্য্য ধরে সাময়িক কষ্ট স্বীকারের জন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।” শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ‘উদ্ধত শাসকদের অস্ত্রের ভাষা ও ষড়যন্ত্র’ মোকাবিলায় দেশবাসী যত দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামবে, জনগণের বিজয় ততই ত্বরান্বিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটারবিহীন নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে গায়ের জোরে জনপ্রতিনিধিত্বহীন বর্তমান সরকার এক বছরের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে আছে। তারা অন্যায় ও অবৈধভাবে দলীয়করণকৃত রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠাগুলো দেশবাসীকে দমন ও জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে অপব্যবহার করছে। এতে জনগণ চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে, অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে সারা দেশ।”

স্থায়ী কমিটি জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্ব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য  নির্বাচনের জন্য আলোচনার মাধ্যমে একটি ফয়সালার আহ্বান জানিয়ে আসছে।  কিন্তু ক্ষমতাসীনরা সে ধরনের উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে তাদের আগেকার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে চাতুরী, প্রতারণা, অপকৌশল ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়ে চলেছে। অশ্লীল আক্রমণাত্মক ভাষা ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তারা সমঝোতার আহ্বানকে নাকচ করে এসেছে।  জনগণ তাদের নির্বাচনী প্রহসন বর্জন করায় ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় বসা সরকার জনগণকে আরো দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়।

সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত এক বছরে নিস্তরঙ্গ পরিবেশেও তারা দেশ-জাতির কল্যাণে কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। লুণ্ঠন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, সন্ত্রাস, উৎপীড়ন, ভিন্নমত দমন ও কুৎসা রটনাতেই তাদের অধিকাংশ সময় কেটেছে। তাদের নিত্যকার কথা ও কাজে ‘বিএনপি, ২০ দল, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ফোবিয়া’  বা আতঙ্কই ফুটে উঠেছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গত এক বছরে কোনো আন্দোলন না করলেও এই জনসম্মতিহীন সরকারের জুলুম-পীড়ন, হামলা-মামলা, গুম-খুন, গ্রেফতার-মিথ্যাচার থেমে থাকেনি। সব ধরনের নিষ্ঠুর অনৈতিক ও অরাজনৈতিক পন্থায় তারা আমাদের নির্মূল করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশ বেষ্টনী এবং বালু, ইট ও ময়লাবাহী ট্রাকবহর দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। গত ১১ দিন ধরে সেখানেই তাকে বেআইনিভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ ক্ষমতাসীনরা এ নিয়ে সীমাহীন মিথ্যাচার করে চলেছে।”

“এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। সেই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।”

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *