অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, হরতাল-অবরোধে ঢাকায় হয়তো কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
জাতীয়

‘অবরোধে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি মারাত্মক’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, হরতাল-অবরোধে ঢাকায় হয়তো কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, হরতাল-অবরোধের ফলে ঢাকায় হয়তো কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তিনি ঢাকার বাইরের জেলাগুলোকে সচল রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থান’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন করে দেশ সচল রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা এখনই বলব না।’

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উত্তরণ কবে হবে, জিজ্ঞেস করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নো বডি নোউজ।’ তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা বলতে পারবেন? গত জানুয়ারিতে আমি আশা করেছিলাম, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। এমন আশা তো আমি করতেই পারি।’

দেশ কি এ অবস্থার মধ্য দিয়েই যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বাংলাদেশ অদ্ভুত দেশ, চাইলেই হরতাল-অবরোধ হয়। তবে এর মধ্যেও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার (জিডিপি) ৬ শতাংশের ওপর থাকছে।’ সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতিতে অর্থনীতির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে চিত্র আগামী মার্চে সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে তুলে ধরা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

দেশবাসীর প্রতি আপনার আহ্বান কী? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ আন্দোলন যারা করছে, তারা বাংলাদেশের শত্রু। আমি সচেতন ব্যক্তিদের (সেনসিটিভ পারসন) এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতে বর্তমান সরকারের কৌশল ছিল, বাজেটের আকার বাড়ানো। কারণ বাজেটের আকার বাড়ানো না গেলে সরকারি কার্যক্রম ব্যাপক হতে পারে না। আর বাজেটের আকার বাড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সঞ্চয়। তখন অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় যা ছিল তা আমাদের পছন্দ হয়নি। একই সঙ্গে বৈদেশিক সাহায্যও কমে গিয়েছিল। বৈদেশিক সাহায্য আমরা তেমন বাড়াতে পারিনি। তবে সাহায্য প্রাপ্তির অঙ্গীকার অনেক বেড়েছে। অর্থছাড় আগের মতই কম। এছাড়া মানব সম্পদ উন্নয়নেও বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র ও বৈষম্য কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে, আমদানি-রফতানি. রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রিজার্ভ অনেক বেড়েছে।’

বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলি না যে, দেশে বিদ্যুতের সংকট নেই। তবে চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য এখন কমে এসেছে। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে সক্ষমতা আছে, এর চেয়ে ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারি।’

চলমান পরিস্থিতিতে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সাল নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। এক কেন্দ্রীভূত পরিকল্পনা দিয়ে হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিব, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় খেলাপী ঋণ বেড়েছে।’ নিম্নমানের ঋণ প্রদানের কারণেই এটা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *