অপহৃত নায়েক রাজ্জাককে হস্তান্তর করেছে বিজিপি

অপহৃত বিজিবি নায়েক আবদুর রাজ্জাককে হস্তান্তর করেছে বিজিপি। মংডুতে পতাকা বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

অপহৃত বিজিবি নায়েক আবদুর রাজ্জাককে হস্তান্তর করেছে বিজিপি। মংডুতে পতাকা বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অপহৃত নায়েক (বিজিবি) আবদুর রাজ্জাককে হস্তান্তর করেছে বিজিপি। মংডুতে পতাকা বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়। তাকে নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওয়ানা হয়েছে বিজিবির প্রতিনিধি দল।

বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে মিয়ানমারের মংডু থেকে রাজ্জাককে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। অপহরণকালে রাজ্জাকের সাথে থাকা অস্ত্র (এসএমজি), ম্যাগজিন ও গোলাবারুদ ফেরত দিয়েছে বিজিপি।”

তিনি জানান, গত ১৭ জুন নাফ নদীতে টহলরত অবস্থায় অপহৃত বিজিবি নায়েক আবদুর রাজ্জাককে তার ব্যক্তিগত অস্ত্র (এসএমজি), ম্যাগজিন এবং গোলাবারুদসহ ফেরত ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, বিজিবির টেকনাফস্থ ৪২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফ স্থলবন্দর ঘাট দিয়ে মিয়ানমারে যান।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিয়ানমারের এন্ট্রি/এক্সিট পয়েন্ট-১ এর ‘দেওয়ান নান্দি হলে’ ওই বৈঠক শুরু হয়। ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাথে মিয়ানমারের ২ বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপির মধ্যে ওই পতাকা বৈঠক অনুষ্টিত হয়।

তিনি জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়ন সদস্য নায়েক আবদুর রাজ্জাককে তার ব্যক্তিগত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ওই বৈঠকে বিজিবির লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ ছাড়াও স্টাফ অফিসার মেজর মাহবুব সাবের ও মেডিকেল অফিসার মেজর মোহাম্মদ শাহআলমও যোগ দেন। বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ২ বিজিপি শাখার অধিনায়ক লে. কর্নেল থি হান।

মেজর মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, পতাকা বৈঠকে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে আলোচনা হয়।

তার দেয়া তথ্য মতে, অপহৃত নায়েক রাজ্জাককে বিজিপির কাছ থেকে ফেরত নেয়ার প্রাক্কালে মেডিকেল অফিসার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন টেকনাফের ঢেকুবনিয়া সীমান্তে বিজিবির একটি টহল দল মাদক পাচারকারীদের পিছু ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে পাচারকারীরা বিজিবি সদস্যদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ওই সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বিজিপি সদস্যরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। সে সময় এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হন ও নায়েক আবদুর রাজ্জাক নাফ নদীতে পড়ে যান। ওখান থেকেই বিজিপি সদস্যরা তাকে অপহরণ করে মিয়ানমারে নিয়ে যায়।

নায়েক রাজ্জাকের শরীরে ক্ষতচিহ্ন

নায়েক রাজ্জাককে নিয়ে টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়কের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা টেকনাফ স্থলবন্দরের পুলিশ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছান সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। এরপর সেখান থেকে বিজিবির টেকনাফ সদর দপ্তরে রওনা হওয়ার আগে রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সুস্থ আছি।” বৃষ্টির মধ্যে বোট থেকে নেমে রাজ্জাককে পায়ে হেঁটেই ঘাটে উঠে আসতে দেখা যায়। বিজিবি বাহিনীর পোশাকে থাকা নায়েক রাজ্জাকের নাকে কাটা দাগ দেখা গেছে। বিজিপি নির্যাতন করেছে কি না জানতে চাইলে রাজ্জাক চুপ করে থাকেন। নাকের ক্ষতের বিষয়ে নায়েক রাজ্জাক সাংবাকিদের বলেন, বিজিপির সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কেটে গেছে।

অপহরণের বর্ণনা দিলেন বিজিবি প্রধান

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আব্দুর রাজ্জাককে নাফ নদী থেকে অপহরণের ঘটনা সাংবাদিকদের কাছে বর্ণনা দিলেন বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবির পিলখানা সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক জানান, ১৭ জুন ভোর রাতে নদীতে বিজিবির দুটি নৌকায় ৩ জন করে ৬ জন টহল দিচ্ছিল। তাদের দলনেতা ছিল রাজ্জাক। প্রায় ৫০০ গজ দূরত্বে নৌকা দুটি টহল দিচ্ছিল।

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নদীতে একটি নৌকা দেখে সন্দেহ হলে সেটিতে তল্লাশি করে বিজিবি সদস্যরা। এরপরেই সাদা পোশাকে মিয়ানমার থেকে আরেকটি নৌকা ঘটনাস্থলে আসে এবং বিজিবি সদস্যদের উপর এলোপাথরি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে বিজিবির সিপাহী বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হন। এ ঘটনার সময় অন্যরা পানিতে পরে গেলে রাজ্জাককে তুলে নিয়ে যায় বিজিপির সদস্যরা। ঘটনাস্থল থেকে মিয়ানমারের সীমান্তের দূরত্ব ছিল মাত্র ১৫০ গজের মত। বিজিবির আরেকটি নৌকা আসার আগেই তারা রাজ্জাককে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিন বিজিবির দুটি টহল নৌকার মধ্যে ১ থেকে দেড়শ গজের দূরত্ব থাকার কথা থাকলেও তাদের দূরত্ব ৫০০ গজের বেশি ছিল। কেন তারা এত বেশি দূরত্বে অবস্থান করছিলো। বিষয়টিও যাচাই করে দেখা হবে বলে জানান আজিজ আহমেদ।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘অপহরণের দেড় ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাটি জানাজানি হলে সব মহল থেকে রাজ্জাককে ফিরিয়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। ১৮ জুন তাদের লিখিত প্রতিবাদ, ১৯ জুন পতাকা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে উপরের নির্দেশ না পাওয়ায় বৈঠকে বসবে না বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।’

অবশেষে বৃহস্পতিবার তারা পতাকা বৈঠকে রাজি হয় এবং অস্ত্র, মোবাইল, ইউনিফর্ম, টর্চসহ সব আনুসাঙ্গিক জিনিসসহ রাজ্জাককে ফেরত দেয় বিজিপি। এঘটনায় বিজিপি সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয় বিজিবির পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *